Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:১২, ২৪ জুলাই ২০২৫

আপডেট: ১৫:১৩, ২৪ জুলাই ২০২৫

সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলনে গেলে বাধ্যতামূলক অবসর, অধ্যাদেশ জারি

সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলনে গেলে বাধ্যতামূলক অবসর, অধ্যাদেশ জারি
ফাইল ছবি

সরকারি কর্মচারীদের যেকোনও ধরনের ‘আন্দোলনমূলক কর্মকাণ্ডে’ অংশগ্রহণ বা অন্যকে তাতে বাধ্য করার ঘটনায় এখন থেকে বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এ বিধান রেখে সরকার জারি করেছে ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’।

বুধবার (২৩ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সংসদ ভেঙে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এটি জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কী আছে সংশোধিত অধ্যাদেশে?

নতুন অধ্যাদেশে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এর ৩৭ ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে:

কোনো সরকারি কর্মচারী কর্তব্যরত সহকর্মীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে বা কাজে উপস্থিত হতে বিরত রাখলে, তা ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।

এজন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে তিন ধরনের শাস্তির যে কোনো একটিতে দণ্ডিত করা যাবে:

  • নিম্নপদ বা বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ
  • বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান
  • চাকরি থেকে বরখাস্ত

আন্দোলনের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না করলেও…

অধ্যাদেশে ‘আন্দোলন’ শব্দটি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে যেভাবে একজন কর্মচারীর অন্যকে কাজ থেকে বিরত রাখার প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে, তাতে এটি মূলত ‘সংগঠিত কর্মবিরতি’, ‘ধর্মঘট’ কিংবা ‘দাবিদাওয়া’ আদায়ের আন্দোলনকে নিশানা করছে বলে মনে করছেন আইন বিশ্লেষকরা।

বেসরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি কর্মচারীরা সাধারণত নিজেরা কাজ বন্ধ রেখে অন্যদেরও কাজে না যেতে চাপ দেন। ফলে প্রতিষ্ঠানিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। এ ধারা সে ধরনের কর্মকাণ্ড দমনেই ব্যবহারযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

কেনো এখন এ অধ্যাদেশ?

গত কয়েক মাসে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নানান দাবিদাওয়া নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কর বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রশাসনসহ নানা স্তরে কর্মসূচির হুমকি ও পালিত কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে সরকার এমন একটি কঠোর আইন কার্যকর করল বলে বিশ্লেষকদের মত।

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে থাকলে এবং জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। এ ক্ষমতার ব্যবহার করে সংশোধনীটি কার্যকর করা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের কড়া বার্তা যে, আমলাতান্ত্রিক অবাধ্যতা বা কর্মসূচিভিত্তিক চাপে নীতি পরিবর্তন হবে না।

প্রতিক্রিয়া

এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মচারী সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আইনটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে। কেউ বলছেন, এটি সরকারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে, আবার কেউ বলছেন, এটি গণতান্ত্রিক কর্মচারী অধিকারের বিরুদ্ধে।

সবার দেশ/এফও 

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’র ঠাঁই হলো পাকিস্তানে!
‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, ত্রিশাল হবে ‘নজরুল সিটি’
এনসিপিতে যোগ দিলেন মহিবুল্লাহ খোকন
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন
৪৭১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে মাউশি
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সীমান্তে ‘স্মার্ট বর্ডার’ গড়ছে ভারত
বিনা ভোটের নির্বাচন বিসিবি দিয়েই শুরু!
ঝটিকা মিছিল থেকে জঙ্গি আ.লীগের ২৬ নেতাকর্মী কারাগারে
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন আর নেই
শার্শায় শিশু ধর্ষণের চেষ্টায় একজন গ্রেফতার
ফ্রান্সে বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বৃদ্ধির ডিক্রি জারি
রামিসা হত্যা মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার হাতে
প্রতিমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের
৪৭ বছর পর ধরার খাল পুনঃখনন, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
কুষ্টিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, বাস খাদে পড়ে নিহত ৪
হাম মোকাবিলাই এখন অগ্রাধিকার, দোষীদের বিচার পরে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী