এনসিপির ২৪ দফা ইশতেহার: নতুন রাষ্ট্র ও সেকেন্ড রিপাবলিকের রূপরেখা
নতুন সংবিধান প্রণয়নসহ ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ইশতেহার পাঠ করেন।
বিকেল ৪টায় ইশতেহার ঘোষণার সময় নির্ধারিত থাকলেও আনুষ্ঠানিক পাঠ করা হয় সন্ধ্যার ঠিক আগে। এর আগে একে একে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা প্রতিশ্রুতি দেন—শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার। জুলাইয়ে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য অটুট রাখার অঙ্গীকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রশ্নে কোনো ছাড় না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
সভাপতির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক ১ দফা কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়নি; এটি ছিল বাংলাদেশের জনগণ ও অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে ঘোষিত। তিনি উল্লেখ করেন, “আজ ৩ আগস্ট—এই দিনে এক বছর আগে আমরা শহীদ মিনারে সমবেত হয়েছিলাম। সেদিন ঢাকা শহরের মানুষ ফ্যাসিবাদ বিলুপ্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে ঐতিহাসিক ১ দফা ঘোষণা করেছিল।”
ইশতেহার পাঠের সময় তিনি ঘোষণা করেন, রাষ্ট্র গঠনে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হবে এবং জুলাই অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি জুলাইয়ের গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত সকল গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, নতুন রাষ্ট্র গঠনের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, নারীর ক্ষমতায়ন, কল্যাণমুখী অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনসিপি।
এনসিপির ২৪ দফা ইশতেহারের মূল বিষয়সমূহ
১. নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক
২. জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার
৩. গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার
৪. ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কার
৫. সেবামুখী প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন
৬. জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
৭. গ্রাম পার্লামেন্ট ও স্থানীয় সরকার
৮. স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ
৯. সার্বজনীন স্বাস্থ্য
১০. জাতিগঠনে শিক্ষানীতি
১১. গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব
১২. ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্ত্বার মর্যাদা
১৩. নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন
১৪. মানবকেন্দ্রিক ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি
১৫. তারুণ্য ও কর্মসংস্থান
১৬. বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি
১৭. টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব
১৮. শ্রমিক-কৃষকের অধিকার
১৯. জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা
২০. নগরায়ন, পরিবহন ও আবাসন পরিকল্পনা
২১. জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা
২২. প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার
২৩. বাংলাদেশপন্থী পররাষ্ট্রনীতি
২৪. জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল
সবার দেশ/এফএস




























