জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশের খসড়া প্রণয়নে ব্যস্ত কমিশন
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কাঠামো চূড়ান্ত করতে কাজ শুরু করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কীভাবে সনদ বাস্তবায়ন হবে, সে প্রক্রিয়ার আইনি ভিত্তি কী হবে—এসব বিষয় নির্ধারণে রবিবার (১৯ অক্টোবর) কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শীর্ষ আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি ‘বিশেষ আদেশ’ জারি করার দিকেই এগোচ্ছে কমিশন। এ আদেশ হবে আসন্ন গণভোট ও সংসদের দ্বৈত ভূমিকা—সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদ—দুটি ক্ষমতা পালনের মূল ভিত্তি।
তবে এখন আদেশের খসড়া চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা আলোচনার মাধ্যমে আদেশের আইনি ভাষা (টেক্সট) ও কাঠামো তৈরি করে শিগগিরই কমিশনের কাছে উপস্থাপন করবেন।
সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে বিভক্তি
গত শুক্রবার ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর হলেও এখনও এর বাস্তবায়নের পথ নির্ধারিত হয়নি। গণভোটের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হলেও গণভোটের ভিত্তি, সময় ও প্রশ্নবিন্যাস নিয়ে রয়েছে মতভেদ। এ কারণেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বামধারার চারটি দল এখনো সনদে সই করেনি।
ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, এ মাসের মধ্যেই সরকারকে সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ দেয়া হবে।
বিশেষ আদেশের পটভূমি ও আইনি ভিত্তি
বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা মত দেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এ বিশেষ আদেশ জারি করতে পারে—কারণ এটি জনগণের অভিপ্রায়ের সরাসরি প্রতিফলন। কমিশনের একাধিক সদস্য মনে করেন, এ আদেশে গণভোটের প্রশ্ন, বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং সংসদের ক্ষমতা—সব কিছু সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি হয়।
তবে গণভোট পরিচালনার জন্য আলাদা আইন বা অধ্যাদেশ প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়েও এখনও পর্যালোচনা চলছে।
সূত্র জানিয়েছে, আদেশের নাম হতে পারে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’, যা গণভোটের আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
গণভোটের প্রশ্নে দুটি চিন্তা
কমিশনের চিন্তা দু’টি বিকল্প পথে এগোচ্ছে—
- পুরো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চান কি না, এ প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট নেয়া।
- কেবল বিতর্কিত বা মতভেদপূর্ণ প্রস্তাবগুলো গণভোটে দেয়া, যেখানে জনগণের রায় চূড়ান্ত হবে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও সমঝোতা হয়নি।
কমিশনের অভিমত
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, কমিশন একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুসংহত সুপারিশ সরকারকে দিতে চায়, যাতে বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
বৈঠকে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের কমিশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরিফ ভূঁইয়া, ইমরান সিদ্দিক, ও তানিম হোসেইন শাওন। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন ও মঈনুল ইসলাম চৌধুরী।
কমিশনের পক্ষে অংশ নেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামান ও মো. আইয়ুব মিয়া। উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা বৈঠক শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া আদেশ ও গণভোট প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হবে—যা হবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ।
সবার দেশ/কেএম




























