Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৪৭, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

আপডেট: ১২:৪৯, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

বসেছেন অতিথি আসনে

সংসদের দেয়াল টপকে জুলাই সনদ স্বাক্ষরস্থলে প্রবেশ ‘জুলাই যোদ্ধাদের

সংসদের দেয়াল টপকে জুলাই সনদ স্বাক্ষরস্থলে প্রবেশ ‘জুলাই যোদ্ধাদের
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে ঘটল অপ্রত্যাশিত এক নাটকীয়তা। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে শতাধিক ‘জুলাই যোদ্ধা’ পুলিশি বাধা অতিক্রম করে সংসদ প্রাঙ্গণের দেয়াল টপকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং অতিথিদের জন্য নির্ধারিত আসনে গিয়ে বসেন।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এক পর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে কোনও ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় পুলিশ। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে স্থানত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টায় শুরু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ‘জুলাই যোদ্ধারা’ সকাল থেকেই জাতীয় সংসদের দক্ষিণমুখী মঞ্চের পাশে অবস্থান নেন। তাদের দাবি— 

জুলাই সনদে জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি” দিতে হবে, তাদের পরিবারগুলোর মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, এবং ‘সুরক্ষা আইন ও দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।

মঞ্চ থেকে মাইকে বারবার ঘোষণা দিয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। তবে ‘জুলাই যোদ্ধারা’ জানিয়ে দেন, তাদের দাবি আদায়ের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা অনুষ্ঠানস্থল ছাড়বেন না।

সনদের প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের যাত্রা শুরু হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আলোচনার প্রথম পর্যায়ে ৩২টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৪৪টি বৈঠকে ১৬৬টি সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়, যার মধ্যে ৬২টির বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে ওঠে।

আরও পড়ুন <<>> জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষার দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ

দ্বিতীয় দফায় সংবিধান সংশোধন-সংশ্লিষ্ট ১৯টি মৌলিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়; এর মধ্যে ১০টিতে কমিশনের ভেতরেই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেয়া হয়েছে— অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট দলের আপত্তি রয়ে গেছে।

চূড়ান্ত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে এবং বাকি ৩৭টি আইন, অধ্যাদেশ, বিধি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত।

৪০ পৃষ্ঠার এ সনদে বলা হয়েছে—

ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যেসব প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, অন্তর্বর্তী সরকার তা কোনো বিলম্ব ছাড়াই বাস্তবায়ন করবে।

তবে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগমুহূর্তে কিছু রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), দাবি জানিয়েছে— খসড়া বাস্তবায়ন আদেশ আগে প্রকাশ না করা হলে তারা স্বাক্ষর করবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড়ে পৌঁছেছে। এটি শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্যও এক নতুন পরীক্ষার সূচনা হতে পারে।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

রানি মৌমাছির টানে যুবকের শরীরে ‘চাক’
বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে আ.লীগ কর্মীদের ভূরিভোজ
শত্রুর কৌশল এখন পুরোপুরি জানা—দাবি ইরানের
এলপি গ্যাসের দাম কমলো
রামিসার গোপনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে সোহেল
মায়ের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ড. খলিলুর রহমান
আলোচিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমি মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হবে: মমতা
ফ্রান্সের নির্বাচনে শ্রমিক রাজনীতির নতুন প্রার্থী আনাস কা-জিব
সিঙ্গাপুর ওপেনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন কসমো স্কুলের ৭ জিমন্যাস্ট
প্রবাসীদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, এক প্ল্যাটফর্মে মিলবে সব সেবা
ডেঙ্গু মোকাবিলায় হামের চেয়েও দক্ষ হতে চায় সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো আওয়ামী লীগ: ড. মঈন খান
বিএনপি নেতার জুয়ার আসরের ছবি ভাইরাল
জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আটক ১৫ নেতাকর্মী
যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন ট্রাম্প, অনড় অবস্থানে ইরান