বিডিআর ট্র্যাজেডি অবশেষে প্রকাশ হলো তদন্তে, রহস্যঘেরা সোহেল তাজ
দু’দিন আগে হাসিনাকে পিলখানায় যেতে নিষেধ করেছিলেন যিনি
বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় ২০০৯ সালের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। আলোচিত এ ট্র্যাজেডির আগে কেন তিনি পিলখানায় যাননি—সেটির কারণও উঠে এসেছে কমিশনে দেয়া জবানবন্দিতে।
স্বাধীন তদন্ত কমিশনের ১৮ নম্বর সাক্ষী, মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের জবানবন্দিতে প্রকাশ, হত্যাকাণ্ডের ঠিক দুই দিন আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব দেহরক্ষী মেজর শোয়েব মো. তারিক উল্লাহকে সতর্ক করেছিলেন বিডিআর সদর ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মোস্তাক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন—২৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী যেন পিলখানায় না আসেন। পরে খোঁজ নিয়ে মেজর শোয়েব জানতে পারেন, শেখ হাসিনা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি সেদিন পিলখানায় যাবেন না।
এদিকে, বিডিআর সদর দফতরে কর্মরত দরজি আকাশের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের জন্য ইউনিফর্ম তৈরি করতে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। এ ইউনিফর্ম তৈরির কাজে সাহায্য করেন ওই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত ডিএডি তৌহিদ।
আকাশ জানান, সোহেল তাজের জন্য তৈরি করা ইউনিফর্মে কোনও র্যাংক লাগানো হয়নি, তবে ছিলো ডিপ সাইন। ইউনিফর্ম প্রস্তুতের পর সেটি তার অফিসে পৌঁছে দেয়া হয়, যদিও আকাশের সঙ্গে সেদিন সোহেল তাজের দেখা হয়নি। এ অস্বাভাবিক ঘটনার কথা জেনে বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তা ব্যাপক কৌতূহল প্রকাশ করেন। ওই ইউনিফর্ম দেখেছিলেন শহিদ কর্নেল আনিস, মেজর হুমায়ুনসহ আরও অনেকে।
কমিশনের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে—বিডিআর বিদ্রোহের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজনৈতিক স্তরের একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে আওয়ামী লীগের দলগত সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর-এর সদর দফতরে বিদ্রোহী জওয়ানদের হামলায় সেনাবাহিনীর ৫৭ জন কর্মকর্তা নির্মমভাবে নিহত হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে ১১ মাস পর কমিশন গত রোববার প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
সবার দেশ/কেএম




























