জামায়াতের সমালোচনায় পার্থ
সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় একাত্তরের পরাজয়ের দলিল?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংবিধান ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সংবিধান নিয়ে এত আপত্তির কারণ কী—এটি কি একাত্তরের পরাজয়ের কথা মনে করিয়ে দেয় বলেই কেউ কেউ অস্বস্তিতে ভোগে?
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পার্থ বলেন, সংবিধান ছুড়ে ফেলার কোনও যৌক্তিকতা নেই। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি ঐতিহাসিক দলিল। প্রয়োজন হলে সংশোধন করা যেতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি বাতিল করার কথা বলা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি আরও বলেন, যারা সংবিধান বাতিলের কথা বলছেন, তারা যদি সত্যিই নতুন কাঠামো চান, তবে সে সময় একটি বিপ্লবী বা ট্রানজিশনাল সরকার গঠন করা উচিত ছিলো। বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে থেকে সেটিকে বাতিল করার দাবি রাজনৈতিকভাবে অসংগত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সমালোচনা করে পার্থ বলেন, একদিকে দীর্ঘদিন ভারতের বিরুদ্ধে রাজনীতি করা, আবার এখন তাদের সঙ্গে বৈঠক করা—এটি দ্বিমুখী অবস্থান। একইভাবে ইসলামের নামে রাজনীতি করে পরে ভোটের রাজনীতিতে শরিয়া আইন না চাওয়ার বক্তব্যও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কৌশলী বা দ্ব্যর্থক বক্তব্য না দিয়ে ইতিবাচক রাজনীতি করা উচিত।
আলোচনায় পার্থ আরও অভিযোগ করেন, ভিন্নমত প্রকাশ করলেই কাউকে ‘জুলাইয়ের বিরুদ্ধে’ অবস্থান নেয়া হচ্ছে—এমন একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ অতীতের একদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে সমালোচনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হতো।
সবার দেশ/কেএম




























