শাপলা গণহত্যা ঠেকানো গেলে জুলাই গণহত্যা হতো না: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও প্রতিরোধ করা গেলে পরবর্তীতে জুলাইয়ের গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটতো না। তার ভাষায়, শাপলা গণহত্যা বাংলাদেশে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা : বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৩ দফা দাবি কেউ সমর্থন করতে পারেন, আবার নাও করতে পারেন। কিন্তু দাবি আদায়ে আসা মানুষের ওপর গণহত্যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামাদের ওপর চালানো সহিংসতার ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলো যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমান ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তখন আলেমদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব ছিলো রাজনৈতিক দলগুলোর। কিন্তু তারা তা করতে পারেনি।
এনসিপি আহ্বায়ক আরও অভিযোগ করেন, সাবেক ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে উপস্থাপন করতো এবং দাড়ি-টুপি পরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিবির আখ্যা দেয়া হতো। তিনি বলেন, আমরা এসব আর মেনে নেবো না। এ দেশের সব আন্দোলন ও মুক্তির সংগ্রামে আলেম-ওলামাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের অবদান জাতীয় ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সীমান্তে মানুষ হত্যা করে কোনও দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় না। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে না। ভারতীয় জনগণ একদিন এ কাঁটাতার ভেঙে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশকে কোনও দেশের করদ রাজ্য হিসেবে দেখতে চাই না। জুলাইয়ে দেশের মানুষ জীবন দিয়েছে স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য।
সভার বিভিন্ন পর্যায়ে বক্তারা শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার, আলেম সমাজের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
সবার দেশ/কেএম




























