ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় নিলেন হাসিনাপুত্র জয়
২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুর দায় স্বীকার করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। ভারতের কোলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কোলকাতায় বিজেপিঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘খোলা হাওয়া’র আয়োজনে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জয়। প্রায় আধা ঘণ্টার বক্তৃতায় তিনি জুলাই আন্দোলন, সরকারের ব্যর্থতা, সহিংসতা, নির্বাচন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
বক্তৃতায় জয় বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে যত নিরপরাধ ছাত্র ও সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, তার সম্পূর্ণ দায় তিনি নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। এতদিন তিনি এ বিষয়ে সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও, কোলকাতার মঞ্চ থেকে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এ দায়ভার গ্রহণ করেন।
জয় স্বীকার করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবি ছিলো ন্যায্য। তার ভাষায়, সরকার আগেই কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছিলো, কিন্তু আদালতের নির্দেশে তা পুনর্বহাল হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। পুরো বিষয়টিকে তিনি সরকারের একটি বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে সহিংসতার সূত্রপাত নিয়ে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি জয়। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার একটি অডিও রেকর্ডেই প্রমাণ রয়েছে যে জঙ্গিরা থানায় হামলা চালাচ্ছিলো এবং সেখান থেকেই পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। তার মতে, সরকার বা পুলিশ আগ বাড়িয়ে হামলা চালায়নি; বরং আন্দোলনের আড়ালে থাকা কট্টরপন্থি ও জঙ্গিগোষ্ঠী অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা শুরু করে।
বক্তৃতার বড় একটি অংশ জুড়ে ছিলো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন। জয় বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রেখে এবং অন্যান্য প্রগতিশীল দলকে কোণঠাসা করে যে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে, তা একতরফা ও গ্রহণযোগ্য নয়। তার দাবি অনুযায়ী, এ নির্বাচন কার্যত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এমনকি জাতীয় পার্টির মতো দলকেও প্রচারের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জয় এ নির্বাচনকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত কোনও নির্বাচনই বৈধ হতে পারে না।
একই সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনার পুত্র। তার ভাষায়, বিএনপি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন এবং ক্ষমতায় এলে জামায়াত ও পাকিস্তানকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জামায়াত সরাসরি সরকারে না থাকলেও নেপথ্য থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করবে, যা ভারতের পূর্ব সীমান্তের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ পরিস্থিতি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন জয়। তার দাবি, জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতির মূল শক্তিতে পরিণত হওয়া থেকে আটকানোর এটি শেষ সুযোগ।
বক্তৃতার শেষ অংশে জয় ৫ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশের কয়েকশ মানুষের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনার দায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
সবার দেশ/কেএম




























