৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো মিশর
প্রায় ৯২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল মিশর। রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে মোহাম্মদ সালাহর দল। একই সঙ্গে নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলোর টিকিট।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হলে ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব যায় টাইব্রেকারে। সেখানে শুরু থেকেই চাপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
প্রথম স্পটকিক নিতে এসে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি শুটার বল উড়িয়ে মারেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাহমুদ সাবের প্রথম শট থেকেই মিশরকে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয় শটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করে ব্যবধান কমান জ্যাকসন আরবিন। তবে মিশরও নিজেদের দ্বিতীয় শট সফলভাবে জালে পাঠিয়ে সুবিধা ধরে রাখে।
তৃতীয় স্পটকিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আওয়ার মাবিল গোল করলেও মিশরের খেলোয়াড়রাও ভুল করেননি। এরপর চতুর্থ শটে মাত্র ১৮ বছর বয়সী হেরিংটন স্পটকিক মিস করলে বড় ধাক্কা খায় সকারুজরা। সে সুযোগে আবদেল শেষ শটটি জালে জড়িয়ে মিশরের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। মাঠজুড়ে শুরু হয় খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।
এর আগে ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছিলো মিশর। প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়ে তারা অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে সে চাপেরই ফল মেলে। ইমান আশুরের দারুণ এক গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর। সে গোলের সুবাদে এগিয়েই বিরতিতে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা এবং ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন আরও বাস্তব হয়ে ওঠে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৫ মিনিটে অস্ট্রেলিয়া একটি ফ্রি-কিক থেকে আক্রমণ গড়ে তোলে। ডি-বক্সে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির ভুলে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী সে গোলে ১-১ সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।
গোল হজমের পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়েও দুই দল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও কোনো দলই জয়সূচক গোল করতে পারেনি।
অবশেষে স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকারে ঠান্ডা মাথার পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস লিখে মিশর। ১৯৩৪ সালের পর আবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমে এবারই প্রথম নকআউট ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেল উত্তর আফ্রিকার দেশটি। সে ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ ষোলোর মঞ্চেও জায়গা নিশ্চিত করল মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বাধীন মিশর।
সবার দেশ/কেএম




























