২৬টি অগ্রাধিকারসহ জামায়াতের ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে, যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের অগ্রাধিকার, নারীর নিরাপত্তা, প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গঠন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপসহ ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারে যে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সেগুলো হলো—
১. আঞ্চলিক স্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি আপসহীন রাষ্ট্র গঠন (National Interest)।
২. বৈষম্যমুক্ত, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গঠন (Social Justice)।
৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া (Youth First)।
৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, অংশগ্রহণমূলক ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র গঠন (Women Participation)।
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ (Public Safety and Security)।
৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন (Zero Corruption)।
৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন (Tech-based Society)।
৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদনের সুযোগ, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং সকল ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ (Widespread Employment)।
৯. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগবান্ধব ও স্বচ্ছ অর্থনীতি গঠন (Robust and Sustainable Economy)।
১০. সমানুপাতিক (PR) পদ্ধতির নির্বাচন, সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করে কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা (Strong and Functional Democracy)।
১১. রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন ও বিচারবহিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা (Justice and Human Rights)।
১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গু যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (July Spirit)।
১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহায়তা বাড়িয়ে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি (Agro-Revolution)।
১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ও ঝুঁকি সংক্রান্ত শূন্যতা অর্জন করে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গঠন (Food Security and Environmental Sustainability)।
১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে শিল্পায়ণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি (Industrialisation)।
১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি, মানসম্মত কাজের পরিবেশ ও নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা (Reasonable Salary and Hassle-free Job Environment)।
১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিত এবং দেশ গঠনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা (Pro-Expatriate Approach)।
১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু ভিত্তির নয়, বরং সকল নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা (Inclusive Nation)।
১৯. আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা (Universal Healthcare System)।
২০. শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা (Educational Reform)।
২১. দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং মৌলিক চাহিদা পূর্ণ করা (Provision of Necessities)।
২২. যাতায়াত ব্যবস্থা পুনর্গঠন করে দেশের বিভাগীয় শহরের সড়ক/রেলপথের দূরত্ব দুই-তিন ঘণ্টায় নামানো এবং ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের মৌলিক পরিবর্তন আনা (Transport Revolution)।
২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা (Affordable Housing)।
২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপ ও চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখে পুনর্জন্ম রোধ করা (Reform Pro-fascist System)।
২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে নিরাপদ কর্মজীবন এবং সকল নাগরিকের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা (Social Security)।
২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সুশাসন এবং সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা (Welfare State)।
সবার দেশ/এফএস



























