সিপিবির নির্বাচনী ইশতেহারে ১৮ দফা অঙ্গীকার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। ‘ব্যবস্থা বদলের নির্বাচনী ইশতেহার’ শিরোনামে প্রকাশিত এ ইশতেহারে ১৮টি দফা অঙ্গীকারসহ সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিন, ছয় মাস, এক বছর এবং দুই বছরের মধ্যে প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন ও সংঘাতপূর্ণ। ক্ষমতাসীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংস, গণতন্ত্রের ক্রমাগত সংকোচন এবং মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার হ্রাস নির্বাচনী পরিবেশকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন শুধু সরকার গঠন নয়, বরং দেশের ভবিষ্যত পথ নির্ধারণ করবে—গণতন্ত্রের পথে নাকি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার দিকে।
ইশতেহারে নির্বাচনকে সামনে রেখে চরম ডানপন্থী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ, সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিপিবির ১৮ দফা অঙ্গীকার হলো—
১. রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন
২. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন
৩. প্রকৃত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
৪. নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা
৫. বৈষম্য হ্রাস, মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন
৬. কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস
৭. শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন
৮. জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার গণমুখী সংস্কার
৯. কৃষিব্যবস্থা সংস্কার ও গ্রামীণ উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ
১০. শ্রমজীবীদের অধিকার সুরক্ষা
১১. নারী অধিকার নিশ্চিতকরণ
১২. যুবশক্তির বিকাশ ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ
১৩. পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামোর সংস্কার
১৪. প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
১৫. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গবেষণার গণমুখী সংস্কার
১৬. গণমাধ্যম, তথ্যের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
১৭. সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রগতিশীল সামাজিক চেতনার বিকাশ
১৮. পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা
সবার দেশ/এফএস




























