Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:১২, ১৫ মে ২০২৬

আপডেট: ০০:১৪, ১৫ মে ২০২৬

উচ্চহার সুদসহ পরিশোধে চাপ বাড়ছে অর্থনীতি ও রিজার্ভে

দেশের মোট বিদেশি ঋণের ৮০ শতাংশ আওয়ামী লীগ আমলের

দেশের মোট বিদেশি ঋণের ৮০ শতাংশ আওয়ামী লীগ আমলের
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বৈদেশিক ঋণের বড় অংশই নেয়া হয়েছে গত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর দেশের মোট বিদেশি ঋণের প্রায় ৮০ শতাংশই নেয়া হয়েছে ওই সময়ে। একই সঙ্গে বাড়তি সুদ, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং কঠিন শর্তের কারণে ঋণ পরিশোধে এখন বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিলো ২০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। ২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে। এরপর ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ধারাবাহিকভাবে বিদেশি ঋণ বাড়তে থাকে।

২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের আগে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারে। পরে অন্তর্বর্তী সরকার ডলার সংকট মোকাবিলায় নতুন ঋণ নেয়ায় ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে প্রায় ৮ হাজার ৬২ কোটি ডলার। অর্থাৎ বর্তমান মোট বিদেশি ঋণের প্রায় ৭৯ দশমিক ৯২ শতাংশই নেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু ঋণের পরিমাণই নয়, এর ধরন ও শর্তও এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোট ঋণের প্রায় ৭৬ শতাংশই উচ্চ সুদ ও কঠিন শর্তযুক্ত। ২০০৯ সালে যেখানে বৈদেশিক ঋণের সুদের হার ছিলো ৪ থেকে ৫ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে ৭ থেকে ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে কিছু ক্ষেত্রে সুদের হার আরও বেশি ছিলো।

এদিকে একই সময়ে ডলারের দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০০৯ সালের শুরুতে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিলো ৬৯ টাকা। ২০২৪ সালে তা ১২০ টাকায় পৌঁছে যায়। কোনও কোনও ব্যাংকে ডলার ১৩২ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধে টাকার চাপও বেড়েছে বহুগুণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক ঋণের বড় অংশ বাজারভিত্তিক সুদ ও বিনিময় হার নির্ভর হওয়ায় ঋণ পরিশোধের সময় আন্তর্জাতিক বাজারের সুদ ও ডলারের দামের প্রভাব সরাসরি পড়ছে। ফলে সরকারকে বাড়তি সুদ, সার্ভিস চার্জ ও দণ্ড সুদ গুনতে হচ্ছে।

ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপ এখন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গত অর্থবছরে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সে পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুধু চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত সরকারি খাতে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার ঋণ শোধ করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণের বিপরীতে রিজার্ভের অনুপাতও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ২০২০ সালে এ অনুপাত ছিল ৬০ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২৩ শতাংশে।

অন্যদিকে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০০৯ সালে যেখানে মাথাপিছু বিদেশি ঋণ ছিলো ১৬৯ ডলার, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০৭ ডলারে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এ পরিমাণ ৬৫৭ ডলারে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের ঋণের বিপরীতে রাষ্ট্র, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্যারান্টি থাকায় ঋণখেলাপির ঝুঁকিও বেড়েছে। অনেক বেসরকারি ঋণগ্রহীতা বিদেশে পালিয়ে গেলেও বা কারাগারে থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে এখন সে ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ-এর গবেষক হেলাল আহমেদ জনি বলেন, বৈদেশিক ঋণের অর্থ যদি উৎপাদনশীল ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় সক্ষম প্রকল্পে ব্যয় হতো, তাহলে চাপ কিছুটা কম থাকত। কিন্তু ঋণের একটি বড় অংশ স্থানীয় মুদ্রাভিত্তিক প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে এবং কিছু অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, এতে একদিকে দেশের দায় বেড়েছে, অন্যদিকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়নি। ফলে এখন ঋণের চাপ সামাল দিতে গিয়ে অর্থনীতি, রিজার্ভ ও সাধারণ মানুষ—সবাই চাপে পড়ছে।

সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রেমিট্যান্স, রফতানি আয় ও বিদেশি সহায়তা থেকে আসা ডলারের বড় অংশই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। ফলে রিজার্ভ থেকে অর্থ নিয়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

একদিন আমিও ওর পিঠে চড়বো: পরীমণি
আ.লীগের ‘লাশের রাজনীতি’ শুরু, মোশাররফের জানাজায় ব্যাপক শোডাউন
ভারতে বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণে প্রাণহানি বেড়ে ১১১
শেকৃবিতে ছাত্রদল নেতার অসাধারণ কৃতিত্ব
দেশের ভুল চিকিৎসায় জটিলতা বেড়েছে কারিনার: কায়সার হামিদ
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: ঝুঁকিতে দেশের উপকারী পতঙ্গ
ব্যাটারিচালিত রিকশায় আসছে অগ্রিম আয়কর
মির্জা আব্বাসকে দেখতে মালয়েশিয়ার হাসপাতালে মাসুদ সাঈদী
ঈদের আগে ২৩ মে সরকারি অফিস খোলা
নিজস্ব প্রযুক্তিতে ‘ফাতাহ-৪’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা পাকিস্তান
দেশের মোট বিদেশি ঋণের ৮০ শতাংশ আওয়ামী লীগ আমলের
আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সুযোগ ১৭ মে
এক বছর পর শেষ হলো আমতলীর সড়কের কাজ
‘ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে’
একযোগে ১১ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম উপাচার্য ড. মতিনুর রহমান
আমতলীতে গভীর রাতে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
বাগাতিপাড়ায় সার সংকটে বিপাকে কৃষক
ঢাকাসহ যেসব রুটে ফ্লাইট বন্ধ করলো এয়ার ইন্ডিয়া