এআইয়ের ‘নকল টেইলর’ ঠেকাতে আইনি ঢাল
নিজের কণ্ঠ আর অবয়বের ট্রেডমার্ক চান টেইলর সুইফট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দাপটে যখন মুহূর্তেই তৈরি হচ্ছে তারকাদের নকল কণ্ঠ, ভুয়া ছবি কিংবা ডিজিটাল অবয়ব—ঠিক তখনই নিজের পরিচয় ও শিল্পীসত্তা রক্ষায় ব্যতিক্রমী এক আইনি পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন পপতারকা টেইলর সুইফট।
নিজের কণ্ঠস্বর ও মঞ্চের নির্দিষ্ট অবয়বের ওপর ট্রেডমার্ক চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অফিসে তিনটি আবেদন জমা দিয়েছেন এ বিশ্বখ্যাত শিল্পী।
বিনোদন অঙ্গনে বিষয়টি এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্পীদের অনুমতি ছাড়াই তাদের কণ্ঠ, মুখাবয়ব ও উপস্থিতি নকল করার প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে, সুইফটের এ পদক্ষেপ সে আতঙ্কেরই বড় প্রতিফলন।

জানা গেছে, টেইলর সুইফটের প্রতিষ্ঠান ‘টিএএস রাইটস ম্যানেজমেন্ট’–এর পক্ষ থেকে জমা দেয়া আবেদনগুলোর মধ্যে দুটি তার বহুল পরিচিত কণ্ঠস্বরকে ঘিরে। এর একটি হলো তার ভক্তদের কাছে পরিচিত সম্ভাষণ—‘হেই, ইট’স টেইলর সুইফট’, আর অন্যটি ‘হেই, ইট’স টেইলর’ বাক্যাংশের জন্য।
শুধু কণ্ঠ নয়, মঞ্চে তার একটি নির্দিষ্ট স্টাইলাইজড উপস্থিতিকেও আইনি সুরক্ষার আওতায় আনতে চাইছেন তিনি। আবেদন অনুযায়ী, সেখানে টেইলরকে দেখা যায় ইরিডিসেন্ট বডিস্যুট, সিলভার বুট পরে গোলাপি স্টেজে গিটার হাতে একটি বিশেষ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে কেউ যদি এআই ব্যবহার করে একই ধরনের ডিজিটাল অবয়ব তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে সেটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

মেধাস্বত্ববিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ জশ গারবেন মনে করেন, এআই প্রযুক্তি বিনোদন জগতের জন্য যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তেমনি তারকাদের ব্যক্তিগত পরিচয় ও সৃজনশীল স্বাতন্ত্র্যকেও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। টেইলরের এ পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও অনেক শিল্পীর জন্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি।
এর আগেও একই ধরনের আইনি কৌশল নিয়েছিলেন হলিউড অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহে। তিনি তার বিখ্যাত সংলাপ ‘অলরাইট, অলরাইট, অলরাইট’-এর ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করে আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ট্রেডমার্ক আইন ব্যবহার করা হয় পণ্য, ব্র্যান্ড বা ব্যবসায়িক পরিচয় রক্ষায়। কিন্তু এআইয়ের যুগে এটি এখন ব্যক্তিগত পরিচয় ও ডিজিটাল অস্তিত্ব সুরক্ষার নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠছে। কারণ ‘রাইট অব পাবলিসিটি’ আইন অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা ফেডারেল আদালতে নেয়া যায়, যা জাতীয় পর্যায়ে অনেক বেশি কার্যকর।
এআইয়ের অপব্যবহারের শিকারও হয়েছেন টেইলর সুইফট। বিভিন্ন সময়ে তার ভুয়া কণ্ঠস্বর, বিকৃত ছবি এবং অনুমতিহীন ডিজিটাল কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকি ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রচারণা ঘিরেও তার ভুয়া ছবি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া বিভিন্ন এআই টুল ও চ্যাটবটেও তার পরিচয় অনুকরণ করে কনটেন্ট তৈরি হওয়ায় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিলো।

যদি টেইলরের এ ট্রেডমার্ক আবেদন অনুমোদন পায়, তাহলে ভবিষ্যতে কোনও এআই প্ল্যাটফর্ম বা ব্যক্তি তার কণ্ঠস্বর কিংবা অবয়ব নকল করে কনটেন্ট তৈরি করলে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির বিস্ফোরণের এ সময়ে টেইলর সুইফটের পদক্ষেপ শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়; বরং এটি পুরো বৈশ্বিক বিনোদন শিল্পে ডিজিটাল স্বত্ব ও পরিচয় রক্ষার নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।
সূত্র: ভ্যারাইটি
সবার দেশ/কেএম




























