সিআর পার্কে শততন্ত্রী বীণার সুরে মুগ্ধ দর্শক
মিষ্টি সুর ছড়িয়ে নিস্তব্ধতাকে আড়াল করে ঝংকার ছড়াচ্ছিলো শততন্ত্রী বীণা। দিল্লীর বাঙ্গালী পাড়া সিআর পার্কে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ভবন মেম্বার্স লাউঞ্জে গত ৪ এপ্রিল আয়োজিত ‘এ সলো মিউজিক্যাল জার্নি শততন্ত্রী বীণা অফ তানসেন পরমম্পরা’ অনুষ্ঠানে দর্শকরা মুহূর্তের জন্যও চোখ ফেলার সুযোগ পেলেন না।
তবলায় সঙ্গত করেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আরেক দিগ্পাল বেনারস ঘরাণার তবলাবাদক পন্ডিত রামকুমার মিশ্র। তানপুরায় ছিলেন ড্রিমি নাইস।

অনুষ্ঠান শুরু হয় বাবা আলাউদ্দিন খাঁয়ের সৃষ্ট বহুল প্রচলিত ‘রাগ হেমন্ত’-এর মাধ্যমে। পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তী পরিবেশনার আগে অত্যন্ত সুন্দর বর্ণনার মাধ্যমে রাগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন। তানসেন পরম্পরার ধ্রুপদ অঙ্গের দীর্ঘায়িত আলাপের স্থায়ী-অন্তরা-সঞ্চারী-অভোগ বাজান। জোড় অঙ্গের শুরুতে পন্ডিত রাম কুমার মিশ্র পাখওয়াজ অঙ্গের তবলায় সঙ্গত করেন। বিলম্বিত জোড় ভাগের স্থায়ী অন্তরা বিস্তারের পর মধ্যজোড় এবং তিশ্রজাতির দ্রুত জোড় পরিবেশনা করেন।

এরপর ট্রেডিশনাল সুরশৃঙ্গারের থোক ঝালা, সরোদের লড়ি ঝালা, সিতারের সিধা ঝালা এবং সুরবাহারের উল্টি ঝালা বাজিয়ে উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করেন। এরপরের পরিবেশনা ছিলো ভারত রত্ন পন্ডিত রবিশঙ্করের সৃষ্ট অত্যন্ত শ্রুতিমধুর ‘রাগ রসিয়া’। সংক্ষিপ্ত আলাপ, মধ্যলয়ে এক তালের বন্দিস ও দ্রুত তিন তালে রেজাখানি গৎ এবং ঝালাসহযোগে শেষ করেন।

অপ্রচলিত বিবাদী স্বর রূপে কোমল নিশাদ-এর ব্যবহারে রাগটিকে শ্রুতি মধুর করে তোলেন। আবার বেজে ওঠে বাবা আলাউদ্দিন খাঁয়ের সৃষ্ট অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘রাগ দুর্গেশ্বরী’। পন্ডিত দিশারী চক্রবর্তীর সুরসৃষ্ট অতিবিলম্বিত লয়ে ‘মাসিদ খানি গৎ’-সহযোগে সুমধুর গৎ বিস্তার ও স্বর বিস্তার পরিবেশন করেন। পরে মধ্যলয়ে ‘আলাউদ্দিন খাঁনি গৎ , ছুটতান, তোড়া, সাওয়াল জওয়াব ও ঝালা বাজান।

সবশেষে তিনি নিবেদন করেন ওস্তাদ আলী আকবর খানের সৃষ্ট দাদরা ছন্দে ‘রাগ মান্ড’র ধুন। একই সঙ্গে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁয়ের একটি কীর্তনের সুর দিয়ে। যে কীর্তনের সুর শুনে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি গান লিখেছিলেন ‘ভালবেসে সখী নিভৃতে যতনে..’।
শ্রীমতি সুস্মিতা চক্রবর্তীর উপস্থাপনায় দুই ঘন্টা ব্যাপি চলমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতাঙ্গনের অসংখ্য উজ্জ্বল মুখ। ‘দ্যা সেন্ট অব সন্তুর’ উপাধি প্রাপ্ত পদ্মশ্রী পন্ডিত ভজন সপুরিজীর সহধর্মীনী প্রফেসর ড. অপর্ণা সপুরিজীর উপস্থিতি সমগ্র অনুষ্ঠানটি আলোকিত করেছিলেন। সাংবাদিক জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র শ্রী জয়ন্ত রায়চৌধুরী ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রাণ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চিত্তরঞ্জন মেমোরিয়াল সোসাইটির সেক্রেটারী শ্রী দেবাশীষ ধর, প্রফেসর দেবযানী বক্সীপত্র, পন্ডিত অরূপ রতন মুখার্জী, পন্ডিত অজয় পি ঝাঁ, পন্ডিত রাজকুমার মজুমদার প্রমূখ।
দর্শকরা অনুষ্ঠানের শেষাংশে বীণার ঝালায় বিমোহিত হয়ে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান।
সবার দেশ/কেএম




























