Sobar Desh | সবার দেশ মুহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন


প্রকাশিত: ১৪:৩১, ৯ মার্চ ২০২৫

আপডেট: ১৪:৩১, ৯ মার্চ ২০২৫

ধর্ষণকারীর শাস্তি সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি 

ধর্ষণকারীর শাস্তি সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি 
ছবি: সবার দেশ

ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে এক ভয়ংকর অপরাধ, যা ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য। ইসলাম ধর্মে ব্যভিচার যেমন কবিরা গুনাহ (মহাপাপ), তেমনি ধর্ষণও মারাত্মক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। তাই যে কোনও ব্যক্তির উচিত নিজেকে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করা এবং সম্ভ্রম বাঁচাতে যথাযথ প্রতিরোধ করা।

ধর্ষণের শাস্তি: ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি-

ইসলাম শুধু ব্যভিচারের শাস্তিই নির্ধারণ করেনি, বরং ধর্ষণের মতো ভয়ংকর অপরাধেরও কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছে। কারণ, ব্যভিচার সাধারণত উভয় পক্ষের সম্মতিতে সংঘটিত হয়, কিন্তু ধর্ষণ হয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে, যা একপক্ষের জন্য চরম অবিচার ও নির্যাতন।

ইসলামি আইনে ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ধর্ষণ একটি দ্বৈত অপরাধ—

১. ব্যভিচার (যার জন্য নির্ধারিত শাস্তি রয়েছে)।
২. অন্যের মর্যাদা ও শারীরিক নিরাপত্তা বিনষ্ট করা।

সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকার কারণ হলো, ধর্ষণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির জীবন ও মানসিক সুস্থতা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রিয় রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  ধর্ষণকারীর জন্য কঠোর শাস্তির কথা বলেছেন, যা প্রয়োজনে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

ইসলামে আত্মরক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি তা যদি হামলাকারীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে হয়, তাহলেও তা ন্যায়সঙ্গত। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একাধিক হাদিসে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

হজরত সাঈদ ইবনে জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—‘যে ব্যক্তি সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহিদ। যে ব্যক্তি জীবন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহিদ। যে ব্যক্তি দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সেও শহিদ। আর যে ব্যক্তি নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সেও শহিদ।’ (তিরমীযি)।

বাংলাদেশে ধর্ষণ: এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।ছোট বাচ্ছা থেকে তরুণ যুবক যুবতী বয়োবৃদ্ধ এ অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে।  অনেক ঘটনাই সংবাদ শিরোনাম হয়েছে, যা সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাধি প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, নৈতিক শিক্ষার প্রচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন, ইসলামী আইনের কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা হলে ধর্ষণের মতো অপরাধ অনেকাংশে হ্রাস পেতে পারে।

সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং সম্ভ্রম রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে,বিশেষত তরুণ প্রজন্মের চারিত্রিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কুরআন সুন্নাহ সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের অন্যতম দাবি, যাতে আমাদের সমাজ নারীর জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক হয়ে ওঠে।

লেখক:
ধর্মীয় শিক্ষক 
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। মিরপুর, ঢাকা।

শীর্ষ সংবাদ:

৭ নভেম্বরের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে
বাংলাদেশকে অভিবাসনের গন্তব্য করতে চান স্পিকার
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ভোটারদের রায়, শুরু পতনের অধ্যায়
সেন্টমার্টিনে আজ থেকে চলবে ৩ পর্যটকবাহী জাহাজ
নিশো-মেহজাবীনের ‘অপলক’
মেসি-রোনালদোসহ ২৬ তারকা ভোটযুদ্ধের মহড়ায়
ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামানের ছেলে গুরুতর আহত
মেঘনা বিএনপির কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ
ট্রাম্পকে ময়লার পাত্রে ফেললো ইরানি দূতাবাসের ভিডিও
হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক
তিতাসে নতুন দুই কূপ, দৈনিক মিলবে ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস
আমেরিকানরা ‘বিরক্ত’ হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প
গাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়
কল্যাণপুরে বাস-লেগুনার সংঘর্ষ, নারীসহ নিহত ৪
আওয়ামী প্রেতাত্মা হাসানুজ্জামানকে দুদকের মহাপরিচালক নিয়োগ