ফিজের আগুনে কিউইদের ছাই
শান্তর শতকে ঘুরে দাঁড়ানো—বাংলাদেশের সিরিজ জয়
হার দিয়ে সিরিজ শুরু করেছিলো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ প্রত্যাবর্তনের পর সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে এসে দেখাল পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। নাজমুল হোসেন শান্ত–এর দায়িত্বশীল সেঞ্চুরি আর মোস্তাফিজুর রহমান–এর বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৫৫ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেনেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম–এ টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান টম ল্যাথাম। শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। মাত্র ৩২ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল।
সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ান শান্ত ও লিটন দাস। দুজন মিলে ইনিংস গুছিয়ে তোলেন ধৈর্য আর বিচক্ষণতায়। লিটন দাস ৭৬ রান করে ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে এগিয়ে যান শান্ত। ফিফটির পর সেঞ্চুরিতে পৌঁছে দলের ভিত শক্ত করেন তিনি। ১১৯ বলে ১০৫ রানের ইনিংসে ছিলো ৯টি চার ও ২টি ছক্কা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ।
২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। মাত্র ৮ রানেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। হেনরি নিকোলাসকে ফেরান মোস্তাফিজ। এরপর উইল ইয়ং ও কেলির জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
তবে মাঝপথে দ্রুত উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে সফরকারীরা। ইয়ং ১৯ ও ল্যাথাম ৫ রান করে আউট হন। অন্যপ্রান্তে কেলি ফিফটি তুলে নিলেও তার ইনিংস বড় হতে দেননি মোস্তাফিজ। ৫৯ রান করা কেলিকে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেন এ বাঁহাতি পেসার।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। মোহাম্মদ আব্বাস, ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ—কেউই দাঁড়াতে পারেননি। শেষদিকে ডিন ফক্সক্রফট একাই লড়াই চালিয়ে যান এবং ৭৫ রান করেন। কিন্তু তাতে ফল বদলায়নি।
৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। মোস্তাফিজুর রহমান ৫ উইকেট নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো ফাইফার পূর্ণ করেন।
এ জয়ে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ–এর নেতৃত্বে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় বাংলাদেশ। শুরুতে হোঁচট খেলেও শেষটা নিজেদের মতো করেই লিখেছে টাইগাররা।
সবার দেশ/কেএম




























