বিচেস–ইস্ট ইয়র্কে লিবারেল প্রার্থীর বড় জয়
কানাডার পার্লামেন্টের এমপি বাংলাদেশি তানভীর
কানাডার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান তানভীর শাহনেওয়াজ। সোমবার (৩১ আগষ্ট) অনুষ্ঠিত ফেডারেল উপনির্বাচনে টরন্টোর বিচেস–ইস্ট ইয়র্ক আসনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
ইলেকশন কানাডার প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, তানভীর শাহনেওয়াজ পেয়েছেন ১৭ হাজার ২৫১ ভোট, যা মোট ভোটের ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) শ্যানন ডিভাইন পেয়েছেন ৮ হাজার ১৫৯ ভোট বা ২৬ দশমিক ২ শতাংশ।
কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী জিম সিরবস পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৫৭ ভোট বা ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। গ্রিন পার্টির ব্রুস লাইভসি পেয়েছেন ৫৩১ ভোট (১ দশমিক ৭ শতাংশ), পিপলস পার্টি অব কানাডার মিশেল লাশাঁস ২৪০ ভোট (০ দশমিক ৮ শতাংশ) এবং কানাডিয়ান ফিউচার পার্টির ক্যামেরন থমাস পেয়েছেন ১৫৭ ভোট (০ দশমিক ৫ শতাংশ)।
বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস
তানভীর শাহনেওয়াজের জয়কে শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন না কানাডার বাংলাদেশি-কানাডিয়ান সম্প্রদায়ের সদস্যরা। দেশটির ফেডারেল পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন একজন জনপ্রতিনিধির অভিষেককে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
বহুসাংস্কৃতিক কানাডার রাজনীতিতে অভিবাসী ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। তানভীরের নির্বাচন সে ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন।
টরন্টোতেই বেড়ে ওঠা
তানভীর শাহনেওয়াজ টরন্টোর ক্রিসেন্ট টাউনে জন্ম ও বেড়ে উঠেছেন। স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তিনি ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো স্কারবরো থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। এরপর প্রায় এক দশক সাবেক এমপি নাথানিয়েল এরস্কিন-স্মিথের সঙ্গে কাজ করেন। এ সময় তিনি কনস্টিটুয়েন্সি অফিস ম্যানেজার এবং পরে স্পেশাল অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতির মাঠে তার দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা এবার নির্বাচনী ফলাফলে বড় সাফল্য এনে দিয়েছে।
আগে সংসদে গিয়েছিলেন ডলি বেগম
তানভীর শাহনেওয়াজের আগে বাংলাদেশি-কানাডিয়ান ডলি বেগমও কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে ফেডারেল রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ানদের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতায় তানভীরের জয় নতুন সংযোজন।
তার এ সাফল্য কানাডায় বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে নতুন উৎসাহ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাদেশিক নির্বাচনেও দুই বাংলাদেশি
এদিকে কানাডার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-কানাডিয়ানদের অংশগ্রহণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সামনে এসেছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসনে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ওই নির্বাচনে প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য (MPP) পদে লিবারেল পার্টির প্রার্থী আহসানুল হাকিম এবং কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী ডা. নূরুল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন এনডিপির প্রার্থী ফাতিমা শাবান।
ফলে পরপর ফেডারেল ও প্রাদেশিক নির্বাচনে বাংলাদেশি-কানাডিয়ান প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশটির রাজনীতিতে এ সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির বিষয়টিকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
নতুন সম্ভাবনার দরজা
তানভীর শাহনেওয়াজের জয় বাংলাদেশি-কানাডিয়ানদের জন্য শুধু একটি নির্বাচনী ফল নয়; এটি কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে অভিবাসী সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণেরও একটি প্রতীকী দৃষ্টান্ত।
টরন্টোর স্থানীয় রাজনীতি থেকে কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্ট—তানভীরের এ যাত্রা বাংলাদেশি-কানাডিয়ান নতুন প্রজন্মের জন্য রাজনীতির আরও বড় পরিসরে প্রবেশের সম্ভাবনার দরজা খুলে দিলো।
সবার দেশ/এমকেজে




























