Sobar Desh | সবার দেশ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:২৯, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভর্তুকির সার যাচ্ছে মিয়ানমারে, ফিরছে মাদক

ভর্তুকির সার যাচ্ছে মিয়ানমারে, ফিরছে মাদক
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের ভর্তুকিতে কৃষকদের জন্য সরবরাহ করা ইউরিয়া ও ডিএপি সার দীর্ঘদিন ধরে সাগরপথে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিনিময়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ বা আইসসহ ভয়ংকর মাদক দেশে ঢুকছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় একাধিক চালান জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে বহনকারী বোট ও শ্রমিকরা আটক হলেও পাচারের মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে সরকারের ভর্তুকির কারণে সারের দাম তুলনামূলক কম। প্রতিবেশী মিয়ানমার ও ভারতে দাম বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সার পাচারের একটি চক্র গড়ে উঠেছে। স্থানীয় ডিলার বা বাফার গুদাম থেকে সার সংগ্রহ করে গভীর রাতে ট্রাকযোগে চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, হালিশহর, পতেঙ্গা ও সীতাকুণ্ডের উপকূলে নেয়া হয়। পরে মাছ ধরার ট্রলার বা কার্গো বোটে করে বঙ্গোপসাগর দিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকায় পাঠানো হয়।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর হালিশহরের দবিরখাল এলাকায় ট্রাক থেকে ফিশিং বোটে সার স্থানান্তরের সময় ১১ টন বা ২২০ বস্তা কাফকোর উৎপাদিত রাসায়নিক সার জব্দ এবং তিনজনকে আটক করা হয়। ৫ সেপ্টেম্বর উখিয়া সীমান্তে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৬০০ কেজি ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া জুলাই ও আগস্টে আটটি চালানে মোট ৩ হাজার ৩১০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭০০ বস্তা ডিএপি এবং বাকিগুলো ইউরিয়া সার।

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তের অন্তত ১৫টি পয়েন্টকে সার পাচারের রুট হিসেবে স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উখিয়ার পালংখালী, বিশেষ করে আনজুমানপাড়া, এবং টেকনাফের হোয়াইক্যং ও হ্নীলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে নাফ নদী হয়ে সার মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এলাকায় কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র সার পাচার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শ্রমিকদের একটি অংশ জড়িত। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, স্থলপথে নজরদারি বাড়ানোর পর পাচারকারীরা চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি নৌপথে সার নেয়ার চেষ্টা করছে। সার পাচার বন্ধে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পরিবহন ও মজুদের পুরো প্রক্রিয়ায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা সার ছোট-বড় নৌযানে তুলে উপকূলীয় পথ দিয়ে মিয়ানমারের দিকে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সীমান্ত ও সমুদ্রপথে এ ধরনের চোরাচালান বন্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আপ্রু মারমা বলেন, সরকার ইউরিয়া ও ডিএপিসহ চার ধরনের সারে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেয়। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বিক্রয় ও বিতরণে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। কোনx অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনের সহযোগিতায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

জলবায়ু দুর্যোগ মানেনা সীমান্ত
ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে বার্সার গোলবন্যা
‘ইরানের আত্মসমর্পণ অলীক স্বপ্ন’
ভর্তুকির সার যাচ্ছে মিয়ানমারে, ফিরছে মাদক
আমি এখনও শারীরিক সম্পর্কে জড়াইনি: মেঘনা আলম
সৌদিতে এক সপ্তাহে গ্রেফতার ১৪ হাজার অভিবাসী
বিরোধীদের ওয়াকআউটের মধ্যেই ৩ বিল পাস
‘এসআরবি’ মোড়কে একই বাহিনী র‍্যাব: টিআইবি
সীমা লঙ্ঘন না করার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
হোটেল সংকটে কোলকাতার রাস্তায় বাংলাদেশি রোগীরা
ট্রাম্প-মেলানিয়ার সংসারে ‘পরকীয়ার’ তীব্র গুঞ্জন
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর মুকুট জোহেইরির মাথায়
রাবির হলে মশারির ওপর বিষধর সাপ
কোনও স্বৈরাচার আর এ দেশে ফিরতে পারবে না: নাহিদ ইসলাম