আওয়ামী ও জামায়াত সংশ্লিষ্টরা কমিটিতে স্থান পাওয়ার অভিযোগ
মেঘনা বিএনপির কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে ১৯ জন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগের পাশাপাশি কয়েকজনের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা উপজেলা বিএনপিকে আরও ঐক্যবদ্ধ, গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন করে ১৯ জন নেতাকে আহ্বায়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল হাশেমের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নতুন অন্তর্ভুক্ত নেতাদের মধ্যে আটজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ১১ জনকে সদস্য করা হয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে শহীদুল্লাহ সরকার, আশরাফুল হক ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট হাতেমুল আলম, শাহ জালাল, আসাদউল্লাহ, সাংবাদিক আবদুল মালেক, বশির আহমেদ ও আমজাদ হোসেনকে। এ ছাড়া জাহানারা বেগমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।
সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন শওকত মেম্বার, জাকির হোসেন (কাশীপুর), আবুল হাশেম (উজানচর নোয়াগাঁও), শাহ আলম গাজী, মমিন মেম্বার (বড়কান্দা), মোমেন (কান্দারগাঁও), আবদুস সাত্তার (বাগাইকান্দি), জাকির মেম্বার (তালতুলী), খন্দকার সাহাদাৎ হোসেন ও নাসির উদ্দিন (বড় নোয়াগাঁও)।
তবে নতুন এ অন্তর্ভুক্তিকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া, মামলা-হামলার শিকার হওয়া এবং দুঃসময়ে সংগঠনের পাশে থাকা অনেক নেতাকর্মীকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি এবং জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে—এমন কয়েকজনকে কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে।
বিশেষ করে কয়েকজনের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি,
যার ভাই মেঘনা উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন এবং যার ছেলে ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি উচ্ছেদের সময় উল্লাস করে মিছিল করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, সে পরিবারের সদস্যকে কীভাবে বিএনপির কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া নতুন কমিটিতে জায়গা পাওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিগত নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের কেউ কেউ। তাদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক অতীত ও পারিবারিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই না করে কীভাবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হলো।

কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন বা বিশেষ উপঢৌকনের প্রভাব ছিলো কি না, তা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পর্যায়ে বাদামতলীর ফল ও ব্যক্তিগত খামারের গাভির দুধের মতো উপঢৌকনের বিনিময়ে পদ-পদবি বণ্টনের অভিযোগ ঘুরছে বলে দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলে কি যোগ্য ও ত্যাগী নেতার এতটাই অভাব যে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের কমিটিতে জায়গা দিতে হচ্ছে?
তাদের মতে, রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পদ কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। যারা দলের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং মামলা-মোকদ্দমার মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের অবদান বিবেচনায় নেয়া উচিত। অন্যথায় দলের ভেতরে বিভক্তি ও অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও উপঢৌকনের বিনিময়ে পদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, দলীয় নেতৃত্ব অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রকৃত ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। কারণ পদ-পদবি সাময়িক হলেও দলের জন্য ত্যাগ, আদর্শ ও রাজনৈতিক ভূমিকার ইতিহাস দীর্ঘস্থায়ী।
সবার দেশ/কেএম




























