পদোন্নতি ও উপাচার্য পদত্যাগ দাবিতে থমকে শিক্ষা কার্যক্রম
শাটডাউন কর্মসূচিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা
উপাচার্যের পদত্যাগ এবং শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চিত পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
সোমবার (১১ মে) থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বুধবারও অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
শিক্ষক ও প্রশাসনিক শূন্যতার কারণে ক্যাম্পাসে দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তাদের সেশনজটসহ একাডেমিক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফেরানোর দাবি জানান তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে। পাশাপাশি নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে বলে তাদের দাবি। এ পরিস্থিতি শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট করছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. তৌফিক আলম বলেন, ইউজিসির নির্ধারিত বিধানের বাইরে গিয়ে পদোন্নতির সুযোগ নেই। কিন্তু শিক্ষকরা পুরোনো নিয়মে পদোন্নতি চান, যা আমার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে অচিরেই সংকটের সমাধান হবে।
এদিকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে। ছুটি শেষে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ক্যাম্পাস খোলার কথা রয়েছে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে ছুটি শেষে আবারও কঠোর কর্মসূচিতে ফিরে যাবেন তারা।
সবার দেশ/কেএম




























