মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ
কাতারে এলএনজি উৎপাদন বন্ধ, বাড়লো গ্যাসের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে কাতার এনার্জি। সামরিক হামলার আশঙ্কার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি ও মেসাইয়িদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি ও মেসাইয়িদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে পরিচালিত স্থাপনাগুলো কাতারের প্রধান জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দুটি ড্রোন হামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মেসাইয়িদের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংক লক্ষ্য করে এবং অন্যটি রাস লাফানে জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত করে। তবে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্ষয়ক্ষতি পরবর্তী সময়ে মূল্যায়ন করা হবে।
একই সময়ে সোৗদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী সেগুলো ভূপাতিত করে, যদিও সামান্য অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে স্থানীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে তারা আশা করছে।
হামলা ও সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইউরোপে গ্যাসের মানদণ্ড বাজারডাচ টিটিএফ গ্যাস মার্কেটে মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এশিয়ায় এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম)–এর এলএনজি মূল্যও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক তেল পরিবহন পথের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারণ বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং কাতারের বেশিরভাগ গ্যাস এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























