উপসাগরে বাড়ছে পশ্চিমা সামরিক সমাবেশ
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের শঙ্কা, কাতারে ব্রিটিশ টাইফুন মোতায়েন
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে পশ্চিমা দেশগুলো। এ প্রেক্ষাপটে কাতারে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যে দোহা শহরের কাছে অবস্থিত আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য সরকার জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাতার সরকারের আমন্ত্রণে পাঠানো টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো যৌথ আরএএফ–কাতারি ইউনিট নম্বর ১২ স্কোয়াড্রনের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এর মূল লক্ষ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, কাতারের সঙ্গে এ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করে এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার ভাষায়, যৌথ স্কোয়াড্রনের মাধ্যমে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহায়তা দেবে এবং উভয় দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ একটি পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাইক গ্রুপ বহন করছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বুধবার রণতরীটি মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও একটি সাবমেরিন। পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামও পাঠানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি হিসেবেই ইরানের দিকে এ নৌবহর পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ভার্জিনিয়ার নরফোক ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলে জানা গেছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ সামরিক সমাবেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূত্রের মতে, কাতারে ব্রিটিশ টাইফুন মোতায়েন কেবল রাজনৈতিক আশ্বাস নয়, বরং ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা মোকাবিলায় একটি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরির উদ্দেশ্যেও নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিহত করতে টাইফুন যুদ্ধবিমান অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।
টাইফুন যুদ্ধবিমান এর আগেও মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। সিরিয়ায় আইএসআইএসের বিরুদ্ধে অভিযান এবং গত বছর ইয়েমেনে হুতি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ হামলায় এসব যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছিলো। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, কাতারে বর্তমান মোতায়েনটি যুক্তরাজ্য–কাতার প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা চুক্তির আওতায় নেয়া একটি প্রতিরক্ষামূলক ও সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আল উদেইদ বিমানঘাঁটি ইরানের আগ্রাসনের ইতিহাসও বহন করে। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে তেহরান এ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দফতর অবস্থিত, যা ঘাঁটিটিকে ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
এর আগে ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার সময় যুক্তরাজ্য এ অঞ্চলে অতিরিক্ত কন্টিনজেন্সি সাপোর্ট পাঠিয়েছিলো, যাতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। এছাড়া ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময়ও নিরাপত্তা সহায়তার অংশ হিসেবে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিলো দেশটি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো শিগগিরই প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে উন্নত রাডার আপগ্রেড পেতে যাচ্ছে, যা এগুলোর শনাক্তকরণ ও যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়াবে।
সবার দেশ/কেএম




























