ড্রাই আইস ও বৈদ্যুতিক শ্মশানে লাশ সংরক্ষণের উদ্যোগ
লাশের পাহাড় নেপাল, মর্গে ঠাঁই নেই
ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নেপালের হাসপাতাল ও মর্গগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। লাশ রাখার জায়গা না থাকায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পচন রোধে ব্যবহার করা হচ্ছে এয়ার কন্ডিশনার, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ও ড্রাই আইস। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বৈদ্যুতিক শ্মশান ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটেকোশী নদীর ভয়াবহ বন্যায় ভেসে আসা লাশ রসুয়া ও নুয়াকোট থেকে চিতওয়ান, তানাহুন ও নওয়ালপরাসি পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে। নদী থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধারের কারণে স্থানীয় হাসপাতাল ও মর্গগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
চিতওয়ানের ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী থেকে এখন পর্যন্ত ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। লাশে সংখ্যা বাড়তে থাকায় ভরতপুরে ২৫০টি লাশ ধারণক্ষমতার একটি অস্থায়ী সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এদিকে স্বজনদের খোঁজে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। অনেকে হাতে স্বজনের ছবি নিয়ে লাশ শনাক্তের চেষ্টা করছেন।
পোখরাতেও ধারণক্ষমতার বাইরে লাশ
পোখরায় পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাস্কি জেলার হাসপাতালগুলোর মোট লাশ সংরক্ষণ সক্ষমতা ৮৮টি হলেও সেখানে ইতোমধ্যে তানাহুন, গোর্খা, পূর্ব নওয়ালপরাসি ও ধাদিং থেকে ৯৩টি লাশ আনা হয়েছে।
কাস্কি জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা কুমান সিং গুরুং জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোর সক্ষমতার চেয়ে বেশি মরদেহ চলে এসেছে। নতুন করে আরও লাশ উদ্ধার হলে সেগুলো পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে।
পোখরা একাডেমি অব হেলথ সায়েন্সে বর্তমানে লাশগুলো ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এতে সর্বোচ্চ ১০ দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত পচন কিছুটা রোধ করা সম্ভব হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় উদ্বেগে রয়েছেন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শনাক্তকরণে ডিএনএ ও আঙুলের ছাপ
লাশ শনাক্তে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। প্রতিটি লাশ ছবি তোলার পাশাপাশি আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্তও সম্পন্ন করা হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে লাশ সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় গোর্খা, পূর্ব নওয়ালপরাসি ও ধাদিং জেলা থেকেও লাশ কাঠমান্ডু ও পোখরায় পাঠানো হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব লাশ দীর্ঘ সময়েও শনাক্ত করা সম্ভব হবে না, সেগুলো নির্দিষ্ট স্থানে নম্বর ও প্রয়োজনীয় রেকর্ড সংরক্ষণ করে দাফন করা হবে।
এদিকে লাশের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে সংরক্ষণ, শনাক্তকরণ ও লাশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
সবার দেশ/এফও




























