বাজেট ২০২৬-২০২৭
বর্ধিত স্বাস্থ্য বাজেট অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগের আহ্বান প্রজ্ঞার
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিসরে থাকা স্বাস্থ্য বাজেট এবার মোট বাজেটের ৭ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব এসেছে, যা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে স্বাস্থ্য খাতের এ বাড়তি বরাদ্দ যেন দেশের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি—অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরভাবে ব্যয় করা হয়, সে আহ্বান জানিয়েছে গবেষণা ও নীতি-প্রভাবক সংস্থা প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।
সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। অথচ এসব রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ দেয়া হয় মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে স্বাস্থ্য বাজেট বৃদ্ধি পেলেও এ খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিনিয়োগ না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেশের মোট জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশে উন্নীত হচ্ছে, যা এর আগে ছিলো মাত্র ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে এ ধরনের প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বরাদ্দের পরিমাণের পাশাপাশি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’ অনুযায়ী, দেশে শীর্ষ ১০টি রোগের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগসহ একাধিক প্রাণঘাতী অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে হৃদরোগজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশ মৃত্যুর পেছনে উচ্চ রক্তচাপ দায়ী।
প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে জানানো হয়, উচ্চ রক্তচাপ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে বিনিয়োগের অর্থনৈতিক সুফলও অত্যন্ত বেশি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা ও চিকিৎসায় ১ টাকা বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১৮ টাকার সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যায়। তবুও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় দেশের তৃণমূল পর্যায়ের অনেক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এ বাড়তি বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ যদি উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগ করা হয়, বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে দেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, অসংক্রামক রোগ বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। তাই স্বাস্থ্য বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, প্রাথমিক চিকিৎসা অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং উচ্চ রক্তচাপসহ ঝুঁকিপূর্ণ রোগগুলোর ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর পরিকল্পনা ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যয় নিশ্চিত করা গেলে অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যু ও চিকিৎসা ব্যয় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সবার দেশ/কেএম




























