হরতালের সুযোগ দেবো না, জামায়াতকে হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে কোনও ধরনের হরতাল-অবরোধের সুযোগ দেয়া হবে না—এমন কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী রাজনীতির প্রসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিএনপিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ বলে সমালোচনা করছে, তারাই আবার গোপনে স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে, যা জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অতীতে ১৯৭১ ও ২০০৮ সালে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে, তারা এখনও একই কৌশল অবলম্বন করছে। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭৩ দিনের মতো হরতাল-অবরোধের কালো অধ্যায় আর ফিরতে দেয়া হবে না। দেশের মানুষের শান্তি ও উন্নয়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করা হবে—হাজার থেকে লাখ, এবং পরবর্তীতে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। পাশাপাশি বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো কয়েক মাসের মধ্যে চালু করার আশ্বাস দেন তিনি।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে বড় ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করা হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে মাধ্যমিক এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করেছিলেন। সে ধারাবাহিকতায় এবার উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগমসহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহেদ আলম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়া জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এর আগে শার্শায় উলশী খাল পুনঃখনন, হরিনারবিলে ৫০০ শয্যার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং দড়াটানায় যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
সবার দেশ/কেএম




























