সরকারের তোষামোদি নয়, সত্য তুলে ধরুন: গণমাধ্যমকে প্রধানমন্ত্রী
গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব জনগণের সামনে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরা—এ কথা উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমকে সরকারের তোষামোদ বা দলীয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাদার সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গণমাধ্যমকে কোনও রাজনৈতিক পক্ষ বা সরকারের প্রশংসা করার মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং জনগণের কাছে সত্য তুলে ধরার দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। দলীয় অবস্থান কিংবা সরকারের তোষামোদ নয়, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদই গণমাধ্যমের মূল শক্তি।
একই সঙ্গে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুসংহত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে দেশের টেলিভিশন শিল্পের বর্তমান অবস্থা, সাংবাদিকদের পেশাগত সংকট, চাকরির নিরাপত্তা, সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্বাধীনতা, নীতিগত সহায়তা এবং গণমাধ্যমের টেকসই বিকাশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ জানান, শুধু তথ্য পরিবেশন নয়, মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী ১৮ জুন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সাংবাদিক, গণমাধ্যম মালিক, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামতের ভিত্তিতে একটি নীতিকাঠামো প্রণয়নের চেষ্টা করা হবে। এতে গণমাধ্যম খাতের বিদ্যমান নানা সমস্যা সমাধানে কার্যকর পথ বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠক শেষে চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের পেশাগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি, গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা এবং পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সরকারও এসব বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানান তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এ আলোচনা দেশের সংবাদমাধ্যম অঙ্গনে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























