সংবিধানে গণভোট না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও নেই: জামায়াত আমির
সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই—সরকারি দলের এমন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংবিধানে যদি গণভোট আয়োজনের সুযোগ না থাকে, তাহলে একই যুক্তিতে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনও বৈধ হতে পারে না। কারণ, পূর্ববর্তী সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো ২০২৯ সালে।
সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জনগণের প্রত্যাশা ও সম্মতির ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই সংসদ নির্বাচনকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়ে গণভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করা এক ধরনের দ্বৈতনীতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ৫১ শতাংশ ভোটকে যদি বৈধতা দেয়া হয়, তাহলে গণভোটে ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটকে কেন অস্বীকার করা হবে? বিরোধী দল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার স্বার্থে ৫১ শতাংশ ভোট পাওয়া সরকারকে মেনে নিয়েছে। সে ক্ষেত্রে আরও বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দেয়া রায়কে উপেক্ষা করার কোনও সুযোগ নেই।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, তা এখন ভঙ্গ করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেয়ার কথা ছিলো। বিরোধী দলের ৭৭ জন সংসদ সদস্য দুটি শপথই গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সরকারি দলের সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার রক্ষা করেননি।
তিনি জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে যেমন আন্দোলন চালিয়ে যাবে, তেমনি রাজপথেও কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ সময় ১৯৯৪ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, সে সময় সরকার দীর্ঘদিন দাবি উপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত গণআন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত বিল পাস করতে বাধ্য হয়েছিলো। বর্তমান সরকারকেও কালক্ষেপণ না করে জনগণের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ১৮ কোটি মানুষের অধিকার উপেক্ষিত হবে আর বিরোধী দল সংসদে বসে শুধু সমর্থন দেবে—আমরা সে ধরনের বিরোধী দল নই। জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ করবো। আজকের ওয়াকআউট সে অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, বিরোধী দল শুরু থেকেই গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার সে দাবি বাস্তবায়ন না করে সংবিধান সংশোধনের জন্য নতুন একটি কমিটি গঠন করেছে।
তার দাবি, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে নির্দেশনা দিয়েছে, নতুন কমিটি তা প্রতিফলিত করে না। ফলে ওই কমিটির প্রতি বিরোধী দলের কোনও নৈতিক সমর্থন নেই। এ কারণেই তারা সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিরোধী নেতাদের ভাষ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সবার দেশ/কেএম




























