অপসংস্কৃতি জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে: জামায়াত আমির
জাতির ঘাড়ে অপসংস্কৃতি চেপে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, নিজস্ব সংস্কৃতির লালন ও চর্চা থেকে অনেক ক্ষেত্রে জাতি পিছিয়ে পড়েছে। এর সুযোগে অপসংস্কৃতি সমাজে প্রভাব বিস্তার করেছে, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’ আয়োজিত নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রত্যেক জাতির নিজস্ব সক্রিয় সংস্কৃতি রয়েছে। সে সংস্কৃতিকে লালন ও ধারণ করতে না পারলে অন্য সংস্কৃতির প্রভাব সহজেই সমাজে বিস্তার লাভ করে। শুধু বক্তব্য দিয়ে নয়, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে জাতিকে সুস্থ সংস্কৃতির ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে।
তিনি বলেন, যার কাছ থেকে শিখবো, তাকে সম্মান করবো। কিন্তু এখন আমাদের সংস্কৃতি কী শিক্ষা দিচ্ছে? কলেজের প্রিন্সিপাল যিনি, তাকে টেনে-হিঁচড়ে পুকুরে ফেলা! এ দৃশ্য অপসংস্কৃতির প্রভাব।
সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সমাজে সাংস্কৃতিক অধঃপতনের কারণে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, লেখক ও সম্পাদক আবুল আসাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল ওমপি, ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ হাজার শিক্ষার্থীর ‘রোড টু সিরাহ’
এদিকে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘রোড টু সিরাহ-২০২৬’ প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে ইসলামী শিক্ষাবিদ আল্লামা কামাল উদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরী, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদিন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘রোড টু সিরাহ-২৬’ প্রতিযোগিতায় তিনটি গ্রুপে শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। চূড়ান্ত ফলাফলে ‘ক’ গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করেন বরিশাল বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজা তুবান শারা। তিনি ৬০ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি, বই, ক্রেস্ট ও সনদ পেয়েছেন।
‘খ’ গ্রুপে প্রথম হয়েছেন ঢাকা বিভাগের রঈসুল ইসলাম। ‘গ’ গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন রাজশাহী বিভাগের আতিয়া বিলকিস তামান্না। প্রথম স্থান অর্জনকারী এ দুই গ্রুপের শিক্ষার্থীদের ওমরাহ পালনের সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীদের ল্যাপটপ এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের ২৫ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হয়েছে। তিন গ্রুপের চতুর্থ থেকে দশম স্থান অর্জনকারীদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা এবং একাদশ থেকে পঁচিশতম স্থান অর্জনকারীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ দেয়া হয়।
প্রতিযোগীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাসূল (সা.)-এর জীবনচর্চার মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের হৃদয় হেদায়েতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। এ অংশগ্রহণ যেনো কেবল পার্থিব পুরস্কার বা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। রাসূল (সা.)-এর জীবনাদর্শকে নিজেদের জীবনে ধারণ করাই এ ধরনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
সবার দেশ/কেএম




























