বেলিংহামের জোড়া গোল
নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে একসময় পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করেছে ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহামের দুর্দান্ত জোড়া গোলে অতিরিক্ত সময়ে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে ‘থ্রি লায়ন্স’রা। পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জয় নিশ্চিত করতে পারেনি ইংলিশরা। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠেন বেলিংহাম।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিলো ইংল্যান্ডের। একের পর এক আক্রমণে নরওয়ের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিলো না তারা। বরং ম্যাচের ৩৬ মিনিটে উল্টো পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে দূরের পোস্ট ঘেঁষে দারুণ শটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ।
গোল হজম করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। সমতায় ফিরতে একাধিক সুযোগ তৈরি করে তারা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সে চেষ্টার ফলও পেয়ে যায় ইংলিশরা। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান জুড বেলিংহাম। তার গোলে ১-১ সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিলো নরওয়ে। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে বল জালে জড়ালেও এরলিং হালান্ডের ফাউলের কারণে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় গোলটি বাতিল করেন ম্যাচ রেফারি।
এরপর ইংল্যান্ড আক্রমণ চালিয়ে গেলেও নরওয়েও পাল্টা আক্রমণে ভয় ধরিয়ে দেয়। ৭৫ মিনিটে কর্নার থেকে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড বল ক্লিয়ার করতে এগিয়ে এলেও সেটি আবার নরওয়ের একজন খেলোয়াড়ের কাছে চলে যায়। সেখান থেকে নেয়া হেড অল্পের জন্য ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্যের সহায়তায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় ইংল্যান্ড।
নির্ধারিত সময়ে আর কোনও গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বেলিংহাম। মরগান রজার্সের নেওয়া শট নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিলান্ডের হাত ফসকে সামনে চলে এলে সুযোগ বুঝে বল জালে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এ মিডফিল্ডার।
গোলের পরপরই পেনাল্টির আবেদন পায় ইংল্যান্ড। প্রথমে রেফারি স্পটকিকের সিদ্ধান্ত দিলেও পরে ভিএআর মনিটরে দেখে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি বাতিল করেন।
ম্যাচের ১১১ মিনিটে ক্লান্ত বেলিংহাম মাঠ ছাড়েন। তার পরিবর্তে নামেন সতীর্থ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লিড ধরে রেখে আর কোনও গোল হজম না করেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। বেলিংহামের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ভর করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ‘থ্রি লায়ন্স’রা।
সবার দেশ/কেএম




























