দুই বিশ্বকাপ, একই কাকতাল!
দুই শিরোপাতেই স্পেনের প্রতিপক্ষ পেয়েছে লাল কার্ড!
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে অসংখ্য নাটকীয় মুহূর্ত আছে। তবে স্পেনের দুই বিশ্বকাপ জয়ের মধ্যে যে অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া গেলো, তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে যেমন প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছিলেন, ঠিক তেমনি ২০২৬ সালের ফাইনালেও আর্জেন্টিনার একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার পরই অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় লা রোহা।
দীর্ঘ ১৬ বছরের ব্যবধানে দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক বিরল কাকতালীয় হিসেবে ধরা দিয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে চাপে পড়ে যায়। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের বাড়ানো বল থেকে জয়সূচক গোল করেন ফেররান তোরেস। তার সে গোলেই ২-১ ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে স্পেন।
এ দৃশ্য অনেককেই ফিরিয়ে নিয়ে যায় ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ফাইনালে। জোহানেসবার্গের সকার সিটিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোলশূন্য সমতায় এগোচ্ছিল ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ডাচ ডিফেন্ডার জন হেইটিঙ্গা। সংখ্যাগত সুবিধা পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ঐতিহাসিক গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন।

দুই ফাইনালের এ অবিশ্বাস্য মিল এখন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুইবারই প্রতিপক্ষ লাল কার্ড দেখেছে, দুইবারই ম্যাচ গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে এবং দুইবারই সে অতিরিক্ত সময়েই এসেছে স্পেনের শিরোপা নিশ্চিত করা গোল।
অবশ্য বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডের ইতিহাস আরও পুরোনো এবং ঘটনাবহুল।
১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম লাল কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার পেদ্রো মনজোন। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই ইউর্গেন ক্লিনসমানকে কঠিন ট্যাকল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি। পরে সতীর্থ গুস্তাভো দেজোত্তিও লাল কার্ড দেখলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত আন্দ্রেয়াস ব্রেমের পেনাল্টিতে ১-০ ব্যবধানে জিতে শিরোপা জেতে পশ্চিম জার্মানি।
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের ফাইনালেও দেখা যায় লাল কার্ডের ঘটনা। ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা স্বাগতিক ফ্রান্সের ডিফেন্ডার মার্সেল দেসাইলি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। যদিও ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও জিনেদিন জিদানের জোড়া গোল এবং এমানুয়েল পেতির আরেক গোলে বিশ্বকাপের প্রথম শিরোপা নিশ্চিত করে ফ্রান্স।

বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত লাল কার্ড আসে ২০০৬ সালে বার্লিনে ইতালি ও ফ্রান্সের ফাইনালে। ম্যাচ ১-১ সমতায় থাকার সময় অতিরিক্ত সময়ে ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে মাথা দিয়ে আঘাত করেন ফ্রান্স অধিনায়ক জিনেদিন জিদান। ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে এমন বিদায়ের পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ইতালি।
২০১০ সালের ফাইনালে জন হেইটিঙ্গার লাল কার্ডের পর যেমন স্পেন প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো, তেমনি ২০২৬ সালের ফাইনালে এনজো ফার্নান্দেজের বিদায়ের পর ফেররান তোরেসের জয়সূচক গোলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে লা রোহা।
ফুটবলে কাকতালীয় ঘটনা নতুন নয়। তবে বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে বড় মঞ্চে দুই শিরোপা জয়ের পেছনে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিঃসন্দেহে স্পেনের বিশ্বকাপ ইতিহাসে যোগ করেছে এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়।
সবার দেশ/কেএম




























