বিদেশের মাটিতে রোমাঞ্চকর ১০ টেস্ট জয় বাংলাদেশের
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট জয়ের ইতিহাস যেনো একেকটি রোমাঞ্চকর অধ্যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথমবার দেশের বাইরে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছিলো বাংলাদেশ। এরপর ধীরে ধীরে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে তাদের ঘরের মাঠেই জয় তুলে নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে টাইগাররা।
সর্বশেষ রোববার (১৬ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ। এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ১০ টেস্ট জয়ের গৌরবময় অধ্যায় এক নজরে—
১. ৯৫ রানের জয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০০৯
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় আসে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। কিংসটাউনে স্বাগতিকদের ৯৫ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে টাইগাররা। সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর বোলিং নৈপুণ্যে পাওয়া সে জয় ছিলো বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম বড় মাইলফলক।
২. ৪ উইকেটের জয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০০৯
একই সফরে গ্রেনাডায় দ্বিতীয় টেস্টেও জয় পায় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় টাইগাররা। দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয় হিসেবে এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেয়।
৩. ১৪৩ রানের জয়, জিম্বাবুয়ে, ২০১৩
চার বছর পর বিদেশের মাটিতে আবারও টেস্ট জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৩ সালে ১৪৩ রানের বড় জয় তুলে নেয় টাইগাররা। এ জয়ের মাধ্যমে দেশের বাইরে টেস্টে নিজেদের ধারাবাহিকতারও প্রমাণ দেয় বাংলাদেশ।
৪. ২১৭ রানের জয়, শ্রীলঙ্কা, ২০১৭
নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ২১৭ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিলো বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় জয়। শততম টেস্টে জয় পাওয়া বিশ্বের চতুর্থ দল হিসেবে রেকর্ড গড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ছিলো জয়ের অন্যতম ভিত্তি।
৫. ২২০ রানের জয়, জিম্বাবুয়ে, ২০২১
২০২১ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ২২০ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ। ব্যাটিং-বোলিংয়ে দাপট দেখিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সহজ জয় তুলে নেয় মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন দল।
৬. ৮ উইকেটের জয়, নিউজিল্যান্ড, ২০২২
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে তৎকালীন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাধারী নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেয় বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে এটিই ছিলো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত বোলিং, বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে তার ৬ উইকেট জয়কে সম্ভব করে তোলে।
৭. ১০ উইকেটের জয়, পাকিস্তান, ২০২৪
রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০২৪ সালের প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই ছিলো বাংলাদেশের প্রথম জয়। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট জয়ের কীর্তিও গড়ে টাইগাররা।
৮. ৬ উইকেটের জয়, পাকিস্তান, ২০২৪
একই সফরের দ্বিতীয় টেস্টেও জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নেয় বাংলাদেশ। দেশের বাইরে অন্যতম সেরা সিরিজ সাফল্য হিসেবে এ জয়টি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।
৯. ১০১ রানের জয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০২৪
২০২৪ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ১৫ বছর পর ক্যারিবীয়দের মাটিতে টেস্ট জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। জ্যামাইকায় স্বাগতিকদের ১০১ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে টাইগাররা। নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলামের বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।
১০. ৯ উইকেটের জয়, অস্ট্রেলিয়া, ২০২৬
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সর্বশেষ এবং অন্যতম ঐতিহাসিক জয় এসেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকরা ২৮৪ রানে অলআউট হলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। এক উইকেট হারিয়েই সে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় টাইগাররা।
এ জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই এমন জয়কে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের এ ১০টি জয় শুধু পরিসংখ্যানের অংশ নয়; প্রতিটি জয়ই টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পরিণত হয়ে ওঠার আলাদা গল্প। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে শুরু করে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া—শক্তিশালী দলগুলোর ঘরের মাঠে জয় বাংলাদেশের টেস্ট সামর্থ্যের পরিধি যে ক্রমেই বাড়ছে, তারই প্রমাণ।
সবার দেশ/কেএম




























