নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা
নাটকীয় ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে নারী হকি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৬০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে সমতায় শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুট-আউটে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় ‘লাস লিওনাস’রা। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নারী হকি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হলো আর্জেন্টিনা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনে ঐতিহাসিক ওয়াগেনার হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই পরাশক্তি আক্রমণাত্মক হকি খেলতে থাকে। নিজেদের পরিচিত মাঠে নেদারল্যান্ডস প্রথমার্ধে বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিলো। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ছিলো অত্যন্ত দৃঢ়। ফলে একের পর এক আক্রমণ করেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিলো না স্বাগতিকরা।
অন্যদিকে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে আর্জেন্টিনা। এমনই এক কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে ফিল্ড গোল করে এগিয়ে যায় লাস লিওনাসরা। পিছিয়ে পড়ে নেদারল্যান্ডস আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পরে পেনাল্টি কর্নার কিংবা দারুণ দলীয় আক্রমণ থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় ওলন্দাজরা।
এরপর ম্যাচ জমে ওঠে আরও বেশি। শেষ ১৫ মিনিটে জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণে যায় দুই দলই। তবে দুই দলের গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর কোনও গোল হয়নি। ফলে নির্ধারিত ৬০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকে ম্যাচ।
এরপর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় পেনাল্টি শুট-আউটে। হকির শুট-আউট নিয়ম অনুযায়ী, একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়ে গোল করার জন্য আট সেকেন্ড সময় পান।
টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান। নেদারল্যান্ডসের একাধিক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন তিনি। ফলে চারটি শটের মধ্যে মাত্র একটিতে গোল করতে সক্ষম হয় ওলন্দাজরা।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার শুটাররা ছিলেন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়ে ঠান্ডা মাথায় তিনটি শট জালে জড়িয়ে দেন তারা। ফলে শুট-আউটে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
এ জয়ের মধ্য দিয়ে তৃতীয়বারের মতো নারী হকি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলল আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারেরও প্রতিশোধ নিলো লাস লিওনাসরা।
সবার দেশ/কেএম




























