Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৪৯, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

নারী-বিদ্বেষে দ্বিমুখী নৈতিকতা? 

বাম ও মধ্যপন্থিদের নীরবতা নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের তীব্র প্রশ্ন

বাম ও মধ্যপন্থিদের নীরবতা নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের তীব্র প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া, যিনি মোনামি নামে পরিচিত, বাম ও মধ্যপন্থি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। নারী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ঘটনায় নির্বাচনী সুবিধা অনুযায়ী প্রতিবাদ ও নীরবতার সংস্কৃতিকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে মোনামি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নারী-বিদ্বেষী ও অবমাননাকর বক্তব্যের উদাহরণ তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি বলেন, যদিও ছবিগুলো তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করে, তবুও তাদের নেতাদের মধ্যে একটি অদ্ভুত মিল রয়েছে—তারা সবাই নারী ও নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন।

মোনামির মতে, আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—নির্বাচন সামনে এলেই এসব দল আবার ‘নারী কার্ড’ ব্যবহার করে সহানুভূতি, আন্তরিকতা ও নারী অধিকারের প্রতি অঙ্গীকারের ছবি আঁকে। অথচ বাস্তবে নারী-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কোনো ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত প্রতিরোধ দেখা যায় না।

তিনি মন্তব্য করেন, আমাদের ক্ষোভ নীতিগত নয়; বরং রাজনৈতিক সুবিধা দ্বারা পরিচালিত। দলীয় নেতা, সমর্থক ও সহানুভূতিশীলরা নিজেদের দলের ভেতর থেকে নারী বিদ্বেষ এলে নীরব থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা সমন্বিত আক্রমণেও অংশ নেন, যা নারী রাজনীতিবিদ, দলীয় সহযোগী কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে দূরবর্তীভাবে যুক্ত নারীদের জীবনকে অসহনীয় করে তোলে।

পোস্টে তিনি আরও বলেন, স্বঘোষিত মধ্যপন্থি দলগুলো, যারা নিজেদের ‘নারী-নিরাপদ’ বা ‘নারী-বান্ধব’ রাজনীতির চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রচার করে, তাদেরও বারবার নারী হয়রানির সঙ্গে যুক্ত থাকতে বা তা সমর্থন করতে দেখা গেছে। নারীদের পোশাক, হিজাব বা নেকাবের পছন্দ, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তি কিংবা রাজনীতিতে নারীদের হেয় করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও প্রচারের মতো ঘটনাও ঘটছে।

মোনামির অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সহ-মধ্যপন্থি বা বামপন্থিদের কাছ থেকে খুব কমই নিন্দা শোনা যায়। বরং একটি সম্মিলিত নীরবতা ও ইচ্ছাকৃত চোখ বন্ধ করে রাখার প্রবণতা দেখা যায়। বিপরীতে, যখন একই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য ডানপন্থি বা ইসলামপন্থি কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে আসে, তখন প্রতিক্রিয়া হয় তাৎক্ষণিক ও জোরালো—প্রতিবাদ, বিবৃতি ও নৈতিক ক্ষোভ দ্রুত সংগঠিত হয়।

এ দ্বিমুখী আচরণকে প্রশ্ন করে মোনামি বলেন, নারী-বিদ্বেষ কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে এলে কেনো অসহনীয় হয়ে ওঠে? যদি নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা, অংশগ্রহণ ও সম্মানের প্রতি অঙ্গীকার সত্যিকারের হয়, তবে তা সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যতদিন না সব রাজনৈতিক দলের নারী হয়রানি, গুন্ডামি ও অবমাননাকর আচরণের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে, ততদিন নারী-বান্ধব রাজনীতির দাবি ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তব নীতির বদলে ফাঁকা স্লোগানই থেকে যাবে।

সবার দেশ/কেএম

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
দেশে হবে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষামন্ত্রী
ভারতের বক্তব্য ‘আধিপত্যবাদের স্টেটমেন্ট’: সারজিস
কোলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর
এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু, এলএনজি সরবরাহ বাড়লো
চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের দ্রুত ধরতে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা
আজ থেকে সারাদেশে ওরাল কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ট্রাম্প নীতি বাতিল
স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ
চ্যাটজিপিটিতে হত্যার ছক, এফবিআইকে জানালো ওপেনএআই
মির্জা ফখরুলকে নেপালের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি: প্রেস সচিব
নেতানিয়াহুকে ধরতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ তুরস্ক
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস
মির্জা ফখরুলকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: বিরোধীদলীয় নেতা