শত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে বাধ্য করা হতো
নারী সহকর্মীকে সাত বছর ধরে যৌন নির্যাতন
অধীনস্ত এক নারী সহকর্মীকে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ভয়াবহ যৌন নির্যাতন, মানসিক নিপীড়ন ও জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার অভিযোগে ফ্রান্সের এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম গিয়োম বুচি। আদালতের রায়ে বলা হয়, তিনি তার সাবেক নারী সহকর্মী ও সঙ্গী লেতিসিয়া আর-কে ভয়ভীতি, মানসিক নিয়ন্ত্রণ ও সহিংসতার মাধ্যমে বছরের পর বছর নির্যাতন করেছেন।
চার সন্তানের জননী ৪২ বছর বয়সী লেতিসিয়া আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, ২০১৫ সাল থেকে নির্যাতনের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তিনি বলেন, স্যাডোম্যাসোকিস্টিক ‘গেম’-এর আড়ালে তাকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনলাইনে যোগাযোগ করা শত শত অচেনা পুরুষের সঙ্গে তাকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হতো।
আদালতে দেয়া বর্ণনায় লেতিসিয়া জানান, বড়দিনের আগের রাতে তাকে একটি মোটরওয়ে সার্ভিস স্টেশনে পাঠিয়ে অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয়, আর পুরো ঘটনা ফোনে শুনছিলেন গিয়োম বুচি।
তিনি আরও বলেন, সাবেক এ ব্যাংক কর্মকর্তা তার বন্ধু, সহকর্মী ও অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতেন এবং সেইসব ব্যক্তির তালিকাও রাখতে বাধ্য করতেন।
বিচার চলাকালে বন্ধ কক্ষে শুনানির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে প্রকাশ্য বিচার চান লেতিসিয়া। তিনি জানান, ফ্রান্সের বহুল আলোচিত ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগী গিসেলে পেলিকট-এর সাহসিকতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি প্রকাশ্যে আদালতে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
লেতিসিয়া আদালতে বলেন, ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আমি স্থায়ী আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। প্রতিটি জোরপূর্বক ঘটনার সঙ্গে মনে হয়েছে আমার ভেতরের একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, তাকে দাসীর মতো ব্যবহার করা হতো এবং ভাষায় প্রকাশ করা যায় না—এমন অপমানজনক কাজেও বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি ২০১৭ সালে সন্তান জন্মের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার একদিন পরই তাকে এক ট্রাকচালকের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হয় বলেও আদালতে জানান তিনি।
অভিযুক্ত গিয়োম বুচি আদালতে শ্বাসরোধ, শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা এবং বিকৃত যৌন আচরণের মতো কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করলেও দাবি করেন, সেগুলো দুজনের সম্মতিতেই হয়েছিলো।
তবে প্রসিকিউটররা আদালতে বেশ কিছু টেক্সট ও ভয়েস মেসেজ উপস্থাপন করেন, যেখানে লেতিসিয়া অবাধ্য হলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিলো বলে অভিযোগ ওঠে। প্রসিকিউটরদের মতে, এসব প্রমাণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে ভুক্তভোগী ভয় ও মানসিক চাপে বাধ্য হয়ে এসব সহ্য করেছেন।
প্রসিকিউটররা আদালতে বলেন, ভবিষ্যতেও অন্য নারীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধ করার গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। এজন্য তারা গিয়োম বুচির বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করেন।
শেষ পর্যন্ত আদালত তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে রায়ে উল্লেখ করা হয়, প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার আগে তাকে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সাজা ভোগ করতে হবে।
সবার দেশ/কেএম




























