হাসপাতালে ভর্তি আরও ৩৭২
ডেঙ্গুর থাবা আরও ভয়াবহ, একদিনে ৩ মৃত্যু
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৭২ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে।
সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ১০৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) বিভিন্ন হাসপাতালে। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫২ জন, খুলনা বিভাগে ৪৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন, রংপুর বিভাগে ছয়জন এবং রাজশাহী বিভাগে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১০ হাজার ৮৫৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৭৫৩ জন, যা চলতি বছরের অন্য যেকোনও মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ। ফলে বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। এছাড়া জানুয়ারিতে দুইজন, ফেব্রুয়ারিতে দুইজন, মে মাসে একজন এবং জুন মাসে ১৩ জনের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতার বিকল্প নেই। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, আঙিনা, টব, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশে কোথাও যেনো পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।
এ ছাড়া জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা ডেঙ্গুর অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের আশা, ব্যক্তি, পরিবার ও সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার হলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
সবার দেশ/কেএম




























