মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও কাতার
সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক রোববার
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর আওতায় এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান সংলাপ প্রক্রিয়ার অংশ।
শনিবার (২০ জুন) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এতে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান এবং কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সমঝোতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়াই হবে বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সমঝোতা স্মারকটি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাকিস্তান তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সংলাপকে উৎসাহিত করতে ইসলামাবাদ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, রোববারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হতে পারে। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের প্রধান প্রতিনিধিরা পৌঁছানোর পরই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ভ্যান্স বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে রোববার থেকেই আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আলোচনাকে দুই দেশের মধ্যে চলমান যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তেহরান জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকের আওতায় অন্যান্য পক্ষের প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যালোচনা করা এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বৈঠক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংকট, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
যদিও বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনও বড় ধরনের চুক্তি বা ঘোষণা আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি, তবুও দুই দেশের প্রতিনিধিদের সরাসরি আলোচনায় বসার উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক মহল ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
সবার দেশ/কেএম




























