ইরানের রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলা, উত্তেজনা বাড়ছে
হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের পাঠানো চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর দেশটির দুটি উপকূলীয় রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৬ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সেন্টকমের দাবি, ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিলো। ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়।
এদিকে তিন মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরোক্ষভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় পরে আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হতে পারে।
ইরান যেকোনও সমঝোতার অংশ হিসেবে তেল রপ্তানির অর্থ ব্যবহারের সুযোগ, তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার দাবি তুলেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সংঘাতের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে দেশটির হাতে এখনও প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান একটি শক্তিশালী ও গর্বিত জাতি হওয়ায় তারা দ্রুত সমঝোতার পথে এগোতে সময় নিচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংঘাত শুরু হয়।
লেবাননেও উত্তেজনা
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর দুটি হামলার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একই সময়ে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করলে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে না। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্রে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করাকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখছে।
এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা সরাবে না এবং সামরিক অভিযানও বন্ধ করবে না। ফলে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























