অর্থ যাবে বন্যা পুনর্বাসনে
বিশ্বব্যাংক ২৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ২৭ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে, যার পরিমাণ স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা। এ অর্থ ব্যয় হবে নতুন একটি প্রকল্পে—‘বাংলাদেশ সাসটেইনেবল ইমার্জেন্সি রিকভারি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স (বি-স্ট্রং)’—যার লক্ষ্য ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্বাসন।
গতকাল এ ঋণচুক্তিতে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের অ্যাক্টিং কান্ট্রি ডিরেক্টর গেইল মার্টিন সই করেন।
বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে এ ঋণ নেয়া হচ্ছে। এতে ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণের উত্তোলিত অংশে বার্ষিক ০.৭৫% সার্ভিস চার্জ এবং ১.২৫% সুদ দিতে হবে। অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ ০.৫০% হারে কমিটমেন্ট ফি নির্ধারিত হলেও, বিশ্বব্যাংক বর্তমানে এ ফি মওকুফ রেখেছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ৫টি সরকারি দফতর যুক্ত থাকবে:
- বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়),
- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (কৃষি মন্ত্রণালয়),
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়),
- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (স্থানীয় সরকার বিভাগ),
- সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন - SDF (আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ)।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি চলবে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও সড়ক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং দুর্গত জনগোষ্ঠীর সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে এ পর্যন্ত ৪৩.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটি ১৩.১ বিলিয়ন ডলারের ৪৭টি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে, যার মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, সমাজ, জ্বালানি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
সবার দেশ/কেএম




























