লেবু-বেগুন-খেজুরে আগুন
রোজার বাজারে পুরোনো সিন্ডিকেটের ছায়া, সব পণ্যই চড়া
ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা ছাড়ালো, খেজুর জাতভেদে কেজিতে বেড়েছে ৫০-১৫০ টাকা, খুচরায় লেবু আকারভেদে ৮০-১৫০ টাকা হালি, কিছু পণ্যের দাম এক সপ্তাহেই দ্বিগুণ বেড়েছে।
রমজান এলেই বাজার যেন চেনা ছকের পুনরাবৃত্তি। একই বাজার, একই দোকানদার—কিন্তু পণ্যের দাম যেন অচেনা উচ্চতায়। ইফতার ও সাহরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিত্যপণ্যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে ভোক্তাদের। খুচরা বিক্রেতারা দোষ দিচ্ছেন পাইকারদের, পাইকাররা বলছেন আমদানিকারক বা সরবরাহ সংকটের কথা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাড়তি দামের বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, কৃষি মার্কেট, মহাখালী কাঁচাবাজার ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে দামে কিছুটা তারতম্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে সবখানেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট।
লেবুতে আগুন
রমজানে ইফতারে লেবুর চাহিদা বাড়ে। সে সুযোগে লেবুর দামও লাফিয়ে বেড়েছে। সাইজভেদে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১৫০ টাকায়। কোথাও কোথাও ১৬০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে।
সবজিতে দ্বিগুণ দাম
বেগুনের দাম গত এক সপ্তাহে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের দাম ২০০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি। মোহাম্মদপুর টাউন হলের এক সবজি বিক্রেতা জানান, আড়তে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরায় দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
পেঁয়াজ-ডাল-ছোলায় চাপ
দেশি পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৫৩ থেকে ৫৬ টাকা। খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। ছোলার দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায় পৌঁছেছে। ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মাঝারি দানার ১১৫ থেকে ১২০ টাকা এবং মোটা দানার মসুর ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন <<>> কালোবাজারি করলে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলা হবে: ধর্মমন্ত্রী
মুরগি ও মাংসে চাহিদার চাপ
রমজান ঘিরে মুরগির চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। সোনালি মুরগি কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং ব্রয়লার ২০০ থেকে ২১০ টাকা। খাসির মাংস কেজি ১,৩০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, খামারি পর্যায়েই দাম বেশি থাকায় খুচরায়ও প্রভাব পড়ছে।
শুল্ক ছাড়েও কমেনি খেজুরের দাম
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)—খেজুর আমদানিতে শুল্ক ৪০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বাজারে তার সুফল মিলছে না। বরং দুই সপ্তাহে বিভিন্ন জাতের খেজুরে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
রাজধানীর বাড্ডা ও কুড়িল জোয়ারসাহারা বাজারে দেখা গেছে:
- বরই ৫০০–৬০০ টাকা কেজি,
- সুক্কারি ৮০০–৯০০ টাকা,
- মেডজুল ১,৪০০–১,৬০০ টাকা,
- মেডজুল জাম্বু ১,৭০০–১,৮০০ টাকা,
- আজওয়া ১,১০০–১,৪০০ টাকা (ছোট সাইজ ৮০০–৯০০),
- মরিয়ম ১,১০০–১,৫০০ টাকা,
- ছড়া খেজুর ৬০০–৭৫০ টাকা কেজি।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় বাজার তুলনামূলক কম এবং পাইকারির চেয়ে খুচরায় বেশি দাম বাড়ানো হচ্ছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
ফলেও ঊর্ধ্বগতি
দেশি ফলের মধ্যে কলার দাম ডজনপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। পেয়ারা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। মাঝারি আকারের আনারস ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস। বিদেশি ফল আগে থেকেই চড়া থাকলেও রোজা উপলক্ষে আরও বেড়েছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজান এলেই একটি অতি মুনাফালোভী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। নির্বাচন-পরবর্তী সরবরাহ সমস্যা, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি—এমন নানা অজুহাত সামনে এলেও বাজার তদারকি জোরদার না হলে মূল্যবৃদ্ধির এ প্রবণতা রোধ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংযমের মাস রমজান। অথচ বাজারে সংযমের চিহ্ন নেই। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এ বাড়তি চাপ এখন বড় দুশ্চিন্তার নাম।
সবার দেশ/কেএম




























