বিশ্ববাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে কম মূল্যস্ফীতি তথ্য প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর প্রত্যাশা জোরদার হওয়ায় মূল্যবান ধাতুর বাজারে নতুন করে গতি এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার নিউইয়র্ক সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ০২২ দশমিক ০৬ ডলারে। সাপ্তাহিক হিসাবে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের সেশনে প্রায় ৩ শতাংশ দরপতনের পর এ উত্থান বাজারে আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার্সও প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ০৪৬ দশমিক ৩০ ডলারে নিষ্পত্তি হয়েছে।
মার্কিন শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই বেড়েছে ০ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে বাজার পূর্বাভাস ছিল ০ দশমিক ৩ শতাংশ। ডিসেম্বরেও মূল্যস্ফীতি ০ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল। প্রত্যাশার তুলনায় কম এ বৃদ্ধিকে বাজার ইতিবাচকভাবে নিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর সুদহার দীর্ঘদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, নরম সিপিআই তথ্য তা কিছুটা প্রশমিত করেছে। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান LSEG জানিয়েছে, চলতি বছরে মোট ৬৩ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমার সম্ভাবনা বাজারে মূল্যায়িত হচ্ছে, যার প্রথম ধাপ জুলাইয়ে আসতে পারে। সাধারণত সুদহার কমলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুতেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রুপার দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৭৭ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে, যদিও সাপ্তাহিক হিসাবে এখনও সামান্য নিম্নমুখী। প্লাটিনাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ০৭৫ দশমিক ৯৩ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৭৪ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে সাপ্তাহিক হিসাবে এ দুই ধাতুই লোকসানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন বাজারের নজর আসন্ন ফেড নীতিনির্ধারণী বৈঠক এবং পরবর্তী মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের তথ্যের দিকে, যা স্বর্ণের পরবর্তী দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সবার দেশ/এফএস




























