সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তাদের অভিমত
আইন শক্তিশালী হলেই সম্ভব শতভাগ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন
বাংলাদেশে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব আইনগতভাবে প্রদান করলে লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব।
রাজধানীর বিআইপি কনফারেন্স রুমে ২৩-২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। কর্মশালাটি আয়োজন করে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)। সহযোগিতায় ছিলো গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে বিশ্বে জন্ম নিবন্ধনের গড় হার ৭৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ এশিয়াতে ৭৬ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে এ হার মাত্র ৫০ শতাংশ। মৃত্যু নিবন্ধনের হারও কম—শুধু ৪৭ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় ৭৪ শতাংশ। অথচ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিকত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ভোটাধিকার ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারের মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে অপরিহার্য। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা, বাজেট ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সঠিক তথ্যের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা জানান, দেশের প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু স্বাস্থ্য সেবার আওতায় জন্মগ্রহণ করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ক্ষমতা দেয়া হয়নি। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নিবন্ধনের দায়িত্ব পরিবারকে দেয়া হয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে ঐচ্ছিকভাবে। বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ব্যক্তির বদলে প্রতিষ্ঠানের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করলে নিবন্ধনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ হাসপাতালে সংঘটিত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব হাসপাতালকে দেয়ার পর শতভাগ বা তার কাছাকাছি হার অর্জন করেছে।
কর্মশালায় বলা হয়, বাংলাদেশে জনসচেতনতার ঘাটতি, জটিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে দুর্বল সমন্বয় বড় বাধা হয়ে আছে। বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংশোধন করে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে আইনগতভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হলে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা ও এসডিজি অর্জন ত্বরান্বিত হবে।
জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, আইন সংশোধন করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রদান করা হলে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যেই শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম ও মো. মঈন উদ্দিন, চ্যানেল আই-এর সিনিয়র নিউজ এডিটর মীর মাসরুর জামান, অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মা’র কনভেনর লিটন হায়দার, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন প্রজ্ঞা’র কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার ও কোঅর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।
সবার দেশ/কেএম




























