নিরাপদে সরানো হলো রোগীদের
খুলনা সিটি মেডিক্যালের ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে
খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের বেজমেন্ট এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালজুড়ে।
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় দুই ঘণ্টা ২০ মিনিট পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশন থেকে প্রথমে পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় পরে আরও ইউনিট যুক্ত করা হলে মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কার্যক্রম শুরু হয় এবং রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের নিচতলার জেনারেটর রুমের পাশ থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পরে ধোঁয়ার পরিমাণ দ্রুত বেড়ে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ধারণা করছেন, হাসপাতালের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন কিংবা জেনারেটর কক্ষ থেকেই আগুনের উৎপত্তি হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুনের তুলনায় ধোঁয়ার পরিমাণ ছিলো অনেক বেশি। ঘন কালো ধোঁয়ায় হাসপাতালের বিভিন্ন তলা আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে রোগীদের শ্বাসকষ্টের আশঙ্কা দেখা দেয়। এ সময় রোগীর স্বজনদের অনেককে জানালার কাচ ভেঙে কক্ষগুলোতে বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করতে দেখা যায়।
উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মই ও ক্রেন ব্যবহার করেন। হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনদের নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ব্যবহৃত ক্রেন সর্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হলেও হাসপাতাল ভবনটি ১৬ তলা হওয়ায় উচ্চতর তলায় অবস্থানকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই রোগীদের দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অনেককে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শান্তিধাম মোড়ের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেয়া হয়েছে। দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমের ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল হক বাবলু জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি মোবাইল ফোনে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. মাসুদ সরদার বলেন, হাসপাতালের বেজমেন্ট থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে নির্ধারণ করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির সদস্যরা রোগী সরিয়ে নেওয়া ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন।
এদিকে আগুনের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হবে।
সবার দেশ/কেএম




























