দুর্ভোগে ১০ হাজার মানুষ
৬ কোটি টাকার সেতু, ওঠানামায় ভরসা বাঁশের সাঁকো
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের বাঘাইয়াকান্দী-কালীপুরা এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু এখন স্থানীয় মানুষের কাছে যেন এক ‘অপূর্ণ উন্নয়নের প্রতীক’। সেতুর মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। ফলে কয়েকটি গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রসুলপুর জিসি-কালীপুরা ভায়া ইমামপুর সড়কে ৫৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় কয়েক বছর আগে। প্রথম ধাপে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৬ হাজার ৩৫ টাকা ব্যয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি সেতুর পাইল, অ্যাবাটমেন্ট, পিয়ার ক্যাপ ও ওয়াল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করতে পারেনি।
পরে কাজের ধীরগতির কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। এ পর্যন্ত সম্পন্ন কাজের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপে ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর ২ কোটি ৫৯ লাখ ৬২ হাজার ৪১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে ওরিয়েন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের দায়িত্ব পায়। মুন্সীগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় টেন্ডার ও কার্যাদেশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও প্রকল্প তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয় গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়কে।
কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে। অথচ এখনও সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি। ফলে সেতুটি ব্যবহার করতে গিয়ে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রকৌশল বিভাগের সূত্র জানায়, নদী বা পানিপ্রবাহের ওপর সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে স্রোতের সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি কোণে সেতু নির্মাণের নিয়ম অনুসরণ করা হয়। সে নিয়ম মেনে সেতুটি নির্মাণ করায় পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের একটি অংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর পড়েছে। জমি অধিগ্রহণ ও মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতাই বর্তমানে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওরিয়েন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, জমি-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বিভিন্ন সময় কাজ ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা কম পরিমাণ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই এবং প্রয়োজন হলে পশ্চিম প্রান্তে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের ব্যয় যুক্ত করে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন বলেন, সেতু এলাকায় জমি-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে। তবে প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৬ কোটি টাকার এ প্রকল্পের সেতু দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়কের অভাবে তারা এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে সেতুটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সবার দেশ/কেএম




























