ক্ষতি ছাড়াতে পারে ২ লাখ কোটি টাকা
বিশ্বকাপের উন্মাদনায় বিশ্বজুড়ে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা
দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। মাঠে শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উন্মাদনা। তবে এ আনন্দ করপোরেট দুনিয়া ও নিয়োগকর্তাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মীদের মনোযোগ ধরে রাখা এবং অফিসে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মানবসম্পদ ও কর্মী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এআই প্ল্যাটফর্ম ‘ইউকেজি’ প্রকাশিত এক বৈশ্বিক জরিপে বলা হয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপ চলাকালীন বিশ্বজুড়ে উৎপাদনশীলতায় বিপুল আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়, আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের সময় নিয়োগকর্তাদের উৎপাদনশীলতায় প্রায় ১,৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই লাখ আট হাজার কোটি টাকার বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের ম্যাচের সময়সূচির কারণে বিভিন্ন দেশে কর্মীদের কাজের রুটিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। জরিপে অংশ নেয়া প্রায় ৩৭ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, তারা খেলার সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন।
এছাড়া ২৭ শতাংশ কর্মী স্বীকার করেছেন, তারা দেরিতে অফিসে আসা, আগে চলে যাওয়া বা পুরোদিন অনুপস্থিত থাকার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রায় ১৪ শতাংশ কর্মী জানান, তারা অফিসে বসেই গোপনে ম্যাচ বা হাইলাইটস দেখবেন।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, ১১ শতাংশ কর্মী আগের রাতে খেলা দেখে ক্লান্ত বা অপ্রস্তুত অবস্থায় পরদিন অফিসে কাজ করতে পারেন, যা কাজের দক্ষতা কমিয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে শুধু সাধারণ কর্মীই নন, ব্যবস্থাপকরাও এ প্রবণতার বাইরে নন। জরিপ অনুযায়ী, ৪২ শতাংশ ম্যানেজার খেলা দেখার জন্য আগেভাগে ছুটি নেয়ার পরিকল্পনা করছেন, আর ৪৫ শতাংশ প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগ খুঁজছেন।
এ গবেষণাটি পরিচালনা করা হয় অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮ হাজার কর্মীর মতামতের ভিত্তিতে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, এটি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির উৎপাদনশীলতার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে—যার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
সবার দেশ/কেএম




























