বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের
উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত বাজেট: নাহিদ ইসলাম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তবে একই সঙ্গে তিনি বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার যে বাজেট প্রস্তাব করেছে, সেখানে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক—উভয় দিকই রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের সক্ষমতা বিবেচনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে এসব খাতে বাড়তি বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিলো। একইভাবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য সহায়ক হতে পারে।
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে থেকেই কার্ডভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সে প্রেক্ষাপটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যদি এসব সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে বাস্তবে এসব সুবিধা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বাস্তবতার ঘাটতি রয়েছে। তার ভাষায়, আমাদের মনে হচ্ছে এবারের বাজেট উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবতাবিবর্জিত। সরকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন।
তিনি দাবি করেন, দেশের বিদ্যমান প্রশাসনিক সক্ষমতা, কর ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এত বড় অঙ্কের রাজস্ব সংগ্রহ করা সরকারের জন্য সহজ হবে না। কর কাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং রাজস্ব প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাজেট কেবল কাগজে-কলমে বড় হলেই হবে না, সেটি বাস্তবায়নের সক্ষমতাও থাকতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে রাজস্ব সংগ্রহ, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে বাস্তবসম্মত সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি বাজেটের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই দলীয় অবস্থান ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
সবার দেশ/কেএম




























