তেলের দাম বাড়ছে না, ঈদে ভাড়া বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: সেতুমন্ত্রী
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পরিবহন খাতে ভাড়া বাড়ানো বা কোনো ধরনের অস্থিরতা সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ায় ভাড়া বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন ও যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ১৫ মার্চ থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেছে। ফলে তেলের অজুহাতে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই।
পরিবহন মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোনও অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া যাবে না। যদি কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় কিছু পরিবহন মালিক অগ্রিম টিকিট ফেরত দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সরকারের হস্তক্ষেপে সে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ঈদযাত্রা উপলক্ষে ট্রেন চলাচল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ রবিউল আলম জানান, শুক্রবার সকাল থেকে ২১টি ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে। কয়েকদিন আগে একটি দুর্ঘটনার কারণে দুটি ট্রেন প্রায় তিন ঘণ্টা দেরিতে চলছিলো, তবে বর্তমানে সে বিলম্ব কমে প্রায় ৪০ মিনিটে নেমে এসেছে। আগামী দুদিনের মধ্যে ট্রেন চলাচলের সময়সূচি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনলাইনে টিকিট বিক্রির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কেনার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু রেলের সক্ষমতা অনুযায়ী ৩৩ হাজার টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ছিলো এবং সবাই ন্যায্যভাবে টিকিট পেয়েছে।
তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যে ঢাকা শহর থেকে প্রায় সোয়া কোটি থেকে দেড় কোটি মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে যাবে। এত অল্প সময়ে এত বিপুল মানুষের যাতায়াত বিশ্বের খুব কম শহরেই দেখা যায়। যাত্রীদের সুবিধার জন্য রেলের কোচ ও লোকোমোটিভের সংখ্যা যতটা সম্ভব বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশন এলাকায় প্রতি ৫০০ মিটার পরপর বিশেষ জ্যাকেট পরিহিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এছাড়া রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ, আনসার ও হাইওয়ে পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাদে ওঠার সব পথ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মানুষের বাড়ি ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষার কারণে মাঝে মাঝে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ যেন ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ না করেন—সেজন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























