ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ, কেঁপে উঠলো ভেনেজুয়েলা সীমান্তও
কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ২০
লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিলো ৭.৪। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়। কেঁপে ওঠে রাজধানী বোগোটাসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। এমনকি প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলার সীমান্ত এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ফাটল দেখা দেয়ার পাশাপাশি কিছু স্থাপনা ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
মেয়র মাউরিসিও সালাজার জানিয়েছেন, কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই পেরেইরা শহরের বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন তিনি। ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত সংকটজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
চোকো বিভাগের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্ডোবা কুরি জানিয়েছেন, কিবদোসহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিভিন্ন এলাকায় জরিপ ও উদ্ধারকাজ চলছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিলো কলম্বিয়ার চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকার প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিলো এর কেন্দ্র।
তবে ভূমিকম্পের মাত্রা ও গভীরতা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারও ভূমিকম্পটির গভীরতা প্রায় ১০৭ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে কলম্বিয়ার জিওলজিক্যাল সংস্থা ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.৭ এবং গভীরতা ৮২ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।
ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটাসহ আন্তিওকিয়া, কুন্দিনামার্কা, মেটা এবং আরও কয়েকটি অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েক সেকেন্ড ধরে অনেক এলাকায় শক্তিশালী ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। আতঙ্কে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি এলাকায় বাড়িঘর ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলো সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামোও কোথাও কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের কম্পন কলম্বিয়ার মূল ভূখণ্ডের বাইরেও অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে শক্তিশালী ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে সীমান্ত অঞ্চলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে জুন মাসে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিলো। ওই দুই ভূমিকম্পের মাত্রাই ছিলো ৭-এর বেশি। ভয়াবহ ওই দুর্যোগে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। বিশেষ করে উপকূলীয় লা গুয়াইরা প্রদেশ ও রাজধানী কারাকাসে ক্ষয়ক্ষতি ছিলো বেশি।
সে বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলো প্রতিবেশী কলম্বিয়ায়। ভূমিকম্পের পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রত্যন্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও উদ্ধার তৎপরতা সম্পন্ন হলে ভূমিকম্পে মোট ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
সবার দেশ/কেএম




























