ছাতকে তিন ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, এমপিসহ আহত অর্ধশত
ছাতক উপজেলা-এর জাউয়াবাজার এলাকায় জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল-সহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে ঘটনাস্থলে যেতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাউয়াবাজার ইউনিয়নের খিদ্রা কাপন গ্রামের আখলুছ মিয়া ও একই ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পক্ষের লোকজনের মধ্যে জমি বিক্রি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিলো। এর জেরে শুক্রবার বিকেলে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় নারী-পুরুষসহ বহু মানুষ আহত হন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর কামরুজ্জামান কামরুল সিলেট থেকে নিজ এলাকায় ফেরার পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষ দেখে উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
এসময় সংঘর্ষকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে তিনি সামান্য আহত হন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
এদিকে প্রথমদিকে জাউয়া পুলিশ ফাঁড়ি-র সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ছাতক থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান-এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-র শান্তিগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ওসি মিজানুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংঘর্ষ বন্ধে মধ্যস্থতা করতে গিয়ে সংসদ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























