সাউথইস্ট ব্যাংকের গ্রাহকদের উৎকণ্ঠা
কোটি টাকার আমানত নিয়ে উধাও ব্যাংক কর্মকর্তা
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সাউথইস্ট ব্যাংক শাখা থেকে ‘কয়েক কোটি’ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন ব্যাংকেরই এক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউল হক—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক ও ক্ষোভে ফুঁসছেন তারা।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অডিট বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক সাত বছর ধরে ওই শাখার রেমিট্যান্স ডেস্কে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গ্রাহকদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আমানতের অর্থ সরিয়ে নিচ্ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
৩০ এপ্রিল প্রবাসী ইমরান হোসেন নিজের একাউন্ট থেকে ৫০ লাখ টাকা গায়েব হওয়ার তথ্য জানিয়ে বলেন, আমি ব্যাংকে গেলে জানতে পারি জিয়াউল হকই এর পেছনে আছেন।
একই অভিযোগ করেছেন আরও অনেক গ্রাহক—কারও ৩২ লাখ, কারও ১০ লাখ, আবার কারও ১৬ লাখ টাকা খোয়া গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রেমিট্যান্স নির্ভর পরিবারগুলোর অর্থ লোপাটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
ব্যাংকের অডিট টিমের প্রধান অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজাউল কবিরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের দল রোববার ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওইদিনই নিরাপত্তাকর্মীকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান জিয়াউল। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ।
এ ঘটনায় ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা তদন্ত শুরু করেছি। গ্রাহকের অর্থের দায়ভার ব্যাংক নেবে—তাই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—একজন ব্যাংক কর্মকর্তা কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে এত বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করলেন, আর ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কীভাবে তা টেরই পেল না?
তদন্তের অগ্রগতি এবং অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তি মিলবে না।
সবার দেশ/কেএম




























