যানজটে অচল সেতু এলাকা
পদ্মা সেতুতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ১৫
পদ্মা সেতুতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। শুক্রবার (১৩ জুন) রাতে সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যখন একটি যাত্রীবাহী বাস সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি পণ্যবাহী ট্রাককে পেছন দিক থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেতুর ওপর ট্রাকটি অচল অবস্থায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলো। সে সময় বাসটি দ্রুতগতিতে আসছিল এবং চালক সম্ভবত সময়মতো ট্রাকটি লক্ষ্য করেননি। ফলে বাসের সামনের অংশ সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা তীব্র আর্তচিৎকার শুরু করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও হাইওয়ে টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর, যাদের আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এ দুর্ঘটনার জেরে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় সেতুতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে, ফলে দুর্ভোগে পড়েন শত শত যাত্রী ও পরিবহন চালক। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সেতুর নিরাপত্তা ও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত না হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সেতু এলাকায় থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মধ্যরাতের পরও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রাখতে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা অতিরিক্ত সময় ধরে সেখানে মোতায়েন ছিলেন।
সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এ দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, ফাস্ট ট্র্যাক অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়হীন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গতি নিয়ন্ত্রণহীনতা কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























